Published on
:
2 min read
এই সময়: মহারাষ্ট্রে ১৯৯০ থেকে ২০০৩–এর মধ্যে আব্দুল করিম তেলগির বহু কোটি টাকার স্ট্যাম্প কেলেঙ্কারির পরে জালিয়াতি রুখতে স্ট্যাম্প পেপার বিক্রি ও বণ্টন ব্যবস্থায় একাধিক রাজ্যে আনা হয়েছিল নতুন পদ্ধতি। কোথাও চালু হয়েছিল ফ্র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, কোথাও স্ট্যাম্প পেপারের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্ট্যাম্প শুল্ক আদায়ের উদ্যোগ শুরু হয়। এ রাজ্যে স্ট্যাম্প পেপার বণ্টনে নতুন নিয়ম কী ভাবে মানা হচ্ছে, বেআইনি ভাবে স্ট্যাম্প পেপার ব্যবহারের অভিযোগে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দায়ের মামলায় রাজ্যের কাছে সেই প্রশ্নই তুলল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বক্তব্য, ‘তেলগি স্ট্যাম্প দুর্নীতির পরে স্ট্যাম্প পেপার বণ্টনের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সেগুলি কি এ রাজ্য মেনে চলছে?’
তেলগি কাণ্ডের পরে স্ট্যাম্প ব্যবস্থায় সংস্কারের পথে হাঁটে একাধিক রাজ্য। রাজস্থানে চালু হয় ফ্র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে স্ট্যাম্প শুল্ক দেওয়ার প্রমাণ নথির উপরেই বিশেষ ছাপের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়। অন্য দিকে, কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে কম মূল্যের স্ট্যাম্প পেপারের ব্যবহার সীমিত করার ব্যবস্থা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে ই-স্ট্যাম্পিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়া এবং লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ সম্ভব। তেলগি কেলেঙ্কারি দেশের অন্তত ১৮টি রাজ্য ও ৭০টি শহরে ছড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে এ রাজ্যে স্ট্যাম্প পেপার বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দায়ের মামলায় অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশে স্ট্যাম্প ভেন্ডরদের কাছ থেকে নিয়ম না মেনে প্রায় ২৫ হাজার স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করে বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশকর্মীরা ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর হয়ে তৃণমূল কর্মীদের দিয়ে ওই স্ট্যাম্প পেপারে সই করাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এর জেরে সাধারণ মানুষের জন্য ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে দাবি মামলাকারীদের। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্য।
শুনানিতে রাজ্যের তরফে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পাল্টা মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন ১৪০টি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। সেই মামলাগুলি গ্রহণ করা হলে বর্তমান মামলাটি কেন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। গত তিন সপ্তাহে কত স্ট্যাম্প পেপার বণ্টন করা হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব আদালতে পেশ করার আবেদন জানান কল্যাণ। রাজ্যও রিপোর্ট জমা দিতে চায় বলে জানায়। শেষ পর্যন্ত স্ট্যাম্প পেপার বণ্টন সংক্রান্ত কী নিয়ম মানা হচ্ছে, তা জানতে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দিতে হবে। ২৭ নভেম্বরের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেবেন মামলাকারী। আগামী ১১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। তেলগি কাণ্ডের পরে স্ট্যাম্প পেপার বণ্টন ব্যবস্থায় সংস্কারের যে প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছিল, পশ্চিমবঙ্গে কী হাল হয়েছে, আদালতের নজর এখন সে দিকেই।
