কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬৭) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, তার নাতি তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর মোকছেদ আলী উলিপুরের ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত মধুপুর খামার গ্রামে ছোট বোন মাজেদার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে একদিন থেকে ১৯ অক্টোবর তিনি একই গ্রামের পণ্ডিতপাড়ায় তার বড় ভাই ৭৫ বছর বয়সী একাব্বর আলীর বাড়িতে যান।
ঠিক একই দিনে একাব্বর আলীর নাতি এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি মিয়া (২০) গাজীপুর থেকে তার দাদুর বাড়িতে আসে। রাতে সবাই একসাথে খাওয়া-দাওয়াও করেন। এরপর রাত ১০টার দিকে ছোট দাদু বাচ্চু মিয়া ও নাতি রাব্বি ঘুমানোর জন্য একই ঘরে যান।
একাব্বর আলী বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ করেই ঘর থেকে রাব্বি তার দাদিকে ডাকতে শুরু করে। ওর চিৎকার ও অস্বাভাবিক ডাকাডাকি শুনে আমি ও আমার স্ত্রী জেগে উঠি। কৌতূহল ও শঙ্কা নিয়ে আমরা ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকাতেই শিউরে উঠি। আমরা দেখতে পাই বিছানা রক্তে ভেসে যাচ্ছে বাচ্চু মিয়ার শরীর, আর তার একটি পা শরীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
ছোট ভাইয়ের এমন বীভৎস অবস্থা দেখে তারা চিৎকার শুরু করলে রাব্বি ভেতর থেকে ঘরের দরজা খুলে দেয়। তখন দেখা যায়, রাব্বির হাতে কাপড় দিয়ে প্যাঁচানো একটি রক্তমাখা ধারালো ছুরি। রক্তভেজা ছুরি দেখে একাব্বর মিয়া আতঙ্কিত হয়ে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করতে থাকলে সুযোগ বুঝে রাব্বি পালিয়ে যায়।
একাব্বর আলী আরও বলেন, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। নাতি রাব্বি মাদকাসক্ত বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, 'তবে ও যে এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটাবে, তা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।'
উলিপুর থানার পরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন বলেন, রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পায় পুলিশ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহতের দুই পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এবং গলা আংশিক কাটা অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এবিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে এবং পলাতক নাতি রাব্বিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরএএস
