ইসরাইলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও এগিয়ে গেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাডি আইজেনকট।
সরকারপ্রধান হিসেবে কে বেশি উপযুক্ত—এমন প্রশ্নের জবাবে আইজেনকটের দিকেই ঝুঁকেছে ইসরাইলের জনগণ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই জনমত জরিপের ফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
‘চ্যানেল ১২’-এর জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে বেশি উপযুক্ত বলে মনে করেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ। এর ফলে আগের জরিপের ১০ শতাংশ ব্যবধান বেড়ে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই ফলাফল সামনে এল। জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকটের ‘য়াশার’ পার্টি ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসতে পারে।
জরিপ অনুযায়ী, ‘য়াশার’ পার্টি ২৪টি আসন পেতে পারে আর নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ’ পার্টি পেতে পারে ২১টি আসন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ পার্টি ১৪টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়ার গোলানের ‘ডেমোক্র্যাটস’ এবং আরব-নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ৯টি করে আসন পেতে পারে।
আভিগডোর লিবারম্যানের ‘ইসরাইল বেইতেইনু’ পার্টি, কট্টর ডানপন্থি ‘শাস’ পার্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ‘জুইশ পাওয়ার’ পার্টি আটটি করে আসন পেতে পারে।
জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো ৫৫টি আসন পেতে পারে (যা আগের জরিপের চেয়ে দুটি বেশি), যেখানে নেতানিয়াহুর বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট পেতে পারে ৫১টি আসন।
এ ছাড়া দুটি আরব দল আরও ১৪টি আসন পেতে পারে। এর ফলে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯; যদিও ভবিষ্যতে গঠিত হতে যাওয়া কোনো সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ততা নিয়ে করা অন্য একটি প্রশ্নে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আছেন নাফতালি বেনেট। বেনেটের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৯ শতাংশ মানুষ, আর নেতানিয়াহুর পক্ষে দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ২২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তাদের কেউই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য নন।
জরিপে নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছিল।
প্রায় ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই সমর্থন তাদের ভোট প্রদানের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে ‘লিকুদ’ পার্টিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা তাদের ক্ষেত্রে কমে গেছে। মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন, এই সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থনকে আরও জোরদার করেছে। সূত্র: আনাদোলু