তাঁর কাজগুলিকে বিশ্লেষণ করে ন’টি বিষয় স্পষ্ট হলো। এক, ছবিতে আঙ্গিকের দিকটিতে তীব্র কালীঘাটীয় প্রভাব। দুই, কম্পোজ়িশনে কালীঘাট-রূপান্তরিত অতিরিক্ত রূপকল্প, ইমেজ ও রূপক-এর ব্যবহার। তিন, কালীঘাট পটের রং টোন ও তার ভেরিয়েশনকে উপেক্ষা করতে না পারা। চার, সাবজেক্ট-এর আধুনিকীকরণ। পাঁচ, কিছু ক্ষেত্রে রঙের অতিরিক্ত ঔজ্জ্বল্যে ছবিতে অন্য এক মাত্রার যোগ। ছয়, কালীঘাটের তৎকালীন জীবনের বাস্তবায়ন এখানে অন্য ভাবে উপস্থাপিত, তিনি সবটাই নিয়েছেন তবু ওই সময়ের সংকট, ব্যঙ্গ, সামাজিক ক্ষয়, অবনমন, অত্যাচার, বাবু-বিবির চারিত্রিক সমস্যা, বাবু কালচার, হিংস্রতা আনোয়ারের ছবিতে নেই। এ সময়ের বর্তমান সমাজে তো সেই সবগুলোই অন্তর্হিত হয়ে যায়নি, তার বদলে এখানে স্বপ্ন, হিরোগিরি, প্রেম, বিলাস, সংগীতপ্রিয়তা, বিশ্রাম, বিবাহ, পশুপ্রেম, রন্ধনসুখ, স্যানিটাইজ়ার ভ্যাকসিন, সাজগোজ ও অন্যান্য— এ সবই তাঁর বিষয়, ফলে আনোয়ারের কালীঘাট স্টাইলাচ্ছন্ন ছবির বাবু-বিবির সামাজিক জীবন অনেক আন্তরিক, অন্তরঙ্গ, সংকটহীন। ফলে রচনা ও ভাবনায় তীব্র পরস্পরবিরোধী আভাস। সাত, কালীঘাটে দেবদেবী অসংখ্য, কিছু কাহিনি নির্ভর, বৈচিত্রময়, এখানে দেবদেবী ছয়-সাতটির বেশি নয়। আট, কালীঘাট পটে যে তীব্র ঔজ্জ্বল্যময় রং তা সমগ্র ছবির পক্ষে যথেষ্ট মানানসই, এখানে বর্ণের গ্যারিশ বা ডে-গ্লোনিয়ন কালার ব্যবহার, বিশেষত একটি সবুজ বা নীলাভ-সবুজ টোন ছবিকে কোথাও ব্যাহত করেছে। নয়, ক্যারিকেচার, কার্টুনধর্মীতার নমুনা কালীঘাটে যা দেখা গিয়েছিল, এখানে তা অনুপস্থিত। উনিশ শতকের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ওই রঙ্গব্যঙ্গ, যাতনা, অত্যাচারের পটভূমি ছিল কালীঘাট চিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তাঁর কাজের কনটেন্টে, কম্পোজ়িশনে কার্টুন ক্যারিকেচারের গভীর ব্যঞ্জনা বিশ্লেষণ নেই।
