Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজোর আনন্দ যেন নিমেষে বদলে গিয়েছে বিষাদে। শনিবার, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯জনের। গুরুতর জখম বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। সকলে একসঙ্গে আনন্দ করছিল, হঠাৎ করে দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এতজনের অকাল প্রয়াণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই ধরনের ঘটনা কুম্ভমেলা, গঙ্গাসাগরে হয়ে থাকে। এমন জায়গায় বহু মানুষের জমায়েত হয়। আগে থেকে সাবধান থাকা উচিত আয়োজকদের। একটু ভুলের জন্য দুর্ঘটনা ঘটে যায়।’
মন্ত্রী এও জানিয়েছেন, বছর বছর কলকাতায় দুর্গাপুজো হচ্ছে। কিন্তু এমন বেদনাদায়ক ঘটনা কখনও ঘটেনি। প্রত্যেক পুজো কমিটিকে ভিড় সামলানোর দিকে নজর দিতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোক দর্শন করে। পুলিশের সব দিক ভালো করে খতিয়ে দেখে তবে পুজোর অনুমতি দেওয়া উচিত। সামান্য ভুলের জন্য বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব, অন্য সরকারি আধিকারিক এবং বিজেপির নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। স্বজনহারা পরিবারদের পাশে রয়েছি আমরা। ঘটনার যথাযথ তদন্ত হবে।’
উল্লেখ্য, উত্তর কলকাতার বিখ্যাত চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে। মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ১৯জনের। পুলিশ সূত্রে খবর, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যায়। সেই চাপেই চোরবাগান পুজো মণ্ডপের বেরোনোর গেটে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য কলকাতার বেশ কিছু জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপ সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।