অভিনয়শিল্পীদের হজ ও ওমরাহ পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি করা ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কার ইবাদত কবুল হবে, কার নিয়ত কতটা আন্তরিক কিংবা কে কখন হেদায়েত পাবেন, সে বিষয়ে রায় দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্মকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
নিজের ফেসবুক পোস্টে শবনম ফারিয়া বলেন, কারও হজ বা ওমরাহ পালনের ছবি দেখে যদি প্রথমেই বাজে মন্তব্য করার ইচ্ছা জাগে, তাহলে নিজের দিকে তাকানো উচিত। কার ইবাদত কবুল হবে, তা নির্ধারণ করার মতো অবস্থানে কেউ নেই।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, হজ বা ওমরাহ পালনের বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। এর সঙ্গে নিয়ত, তাওফিক ও আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়ও রয়েছে। তাই কারও ইবাদত কবুল হবে না, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গ টেনে শবনম ফারিয়া বলেন, অভিনয় তাঁদের পেশা। পৃথিবীর অনেক মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হজ বা ওমরাহ পালন করেছেন। তাঁদের ইবাদত গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আল্লাহ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন।’
নিজেকে খুব বেশি ধর্মপরায়ণ মানুষ হিসেবে দাবি না করেও অন্যকে বিচার না করার আহ্বান জানান শবনম ফারিয়া। তিনি বলেন, কার আমল, নিয়ত কিংবা প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন, তা কেউ জানেন না। তাই অন্যের ইবাদত নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের আমলনামা নিয়ে ভাবা উচিত।
পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, যেসব রাজনৈতিক নেতা মিথ্যা আশ্বাস দেন কিংবা যাঁরা সুদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের হজ-ওমরাহর ছবি দেখেও কি একইভাবে মন্তব্য করা হয়? নাকি ব্যক্তিগত অপছন্দ কিংবা ঈর্ষা থেকে কারও কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়?
শবনম ফারিয়ার মতে, কেউ নিজের জীবনের আনন্দ, বিশ্বাস কিংবা সুন্দর মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিলে তাতে আনন্দিত হতে না পারলে নীরব থাকাই ভালো। প্রয়োজনে তাঁকে এড়িয়ে চলা বা আনফলো করা যেতে পারে। কিন্তু তাঁর ইবাদত কবুল হবে কি না, সে বিষয়ে রায় দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
পোস্টের শেষাংশে এই অভিনেত্রী বলেন, ধর্ম পালন কাউকে অন্যের ঈমান, নিয়ত কিংবা ইবাদতের বিচারক বানিয়ে দেয় না। অন্যের আমল নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়ত ঠিক করার চেষ্টা করা উচিত। অন্যের ইবাদত কবুল হয়েছে কি না, তা আল্লাহর বিষয়; আর সেই ইবাদত নিয়ে কেউ কী ধরনের মন্তব্য করছেন, তা তাঁর নিজের আমলনামার বিষয়।
এমএম/
