বাড়ির সামনেই জুরাসিক পার্ক বানিয়েছেন এই দম্পতিছবি: সংগৃহীত
Published on
:
2 min read
হলিউডের কালজয়ী ছবি ‘জুরাসিক পার্ক’-এর দুনিয়া এ বার বাস্তবের উঠোনে। শুধু তাই নয়, দলে দলে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে সেই উঠোনে। ডায়নোসোরের শো দেখতে। এই ড্রিম ল্যান্ড ওয়ার্ল্ডকেই এ বার বাস্তবের মাটিতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি।
ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রানাডা হিলসের এক দম্পতি নিজেদের বাড়ির সামনের উঠোনকে সাজিয়ে তুলেছেন ডাইনোসরের এক আশ্চর্য জগতে। প্রায় ৪,০০০ ডলার খরচ করে অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে তাঁরা এই পার্কটি তৈরি করেছে। এই আশ্চর্য পার্কটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ২০০ ঘণ্টারও বেশি। প্রতিবছর হ্যালোউইন মরশুম শুরু হলে এই পার্কটিকে সাজানো হয়।
কিন্তু এখানে যে কেউ অবাধে প্রবেশ করতে পারে। লাগে না কোনও টিকিট, কোনও প্রবেশমূল্য। ১৩ ফুট উঁচু প্রবেশদ্বার, বিশাল ডাইনোসরের মডেল, আলো-আবহ এবং শব্দের চমক—সব মিলিয়ে এই বাড়ি এখন স্থানীয়দের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। কী কী রয়েছে এই আশ্চর্য জুরাসিক পার্কের ভিতরে?
১৩ ফুট উঁচু গেট, যেন ছবির সেই রহস্যময় দ্বীপ
রব ও কেল ওয়ার্নার তাঁদের বাড়ির সামনের উঠোনকে সাজিয়েছেন ১৯৯৩ সালের স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবির আদলে। কাঠ দিয়ে তৈরি ১৩ ফুট উঁচু প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়েছে। গেটের কাঠামো মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ফ্রেম ও মাটিতে বসানো শক্তপোক্ত অ্যাঙ্কর। চারপাশে রয়েছে কৃত্রিম বৈদ্যুতিক বেড়া, সতর্কবার্তার আলো এবং গাছপালা।
কী ভাবে চলে ডাইনোসরের শো?
এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো অটোমেটিক ডাইনোসর পালানোর শো। নির্দিষ্ট সময়ে জ্বলে ওঠে লাল জরুরি আলো, বাজে সাইরেন, সঙ্গে শোনা যায় ছবির পরিচিত সংলাপ ও আবহসঙ্গীতও। যান্ত্রিক ব্যবস্থায় ডাইনোসরের মডেলগুলিকেও নড়াচড়া করানো হয়। টাইমার ও ইলেকট্রনিক কন্ট্রোলারের সাহায্যে পুরো শো পরিচালিত হয়।
২০০ ঘণ্টার পরিশ্রম, খরচ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা
তবে এই আয়োজনের জন্য তাঁদের খরচ হয়েছে অনেকটা টাকা। কাঠ, ফ্রেম, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম-সহ সব উপকরণ মিলিয়ে পরিবারটির খরচ হয়েছে প্রায় ৪,০০০ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
প্রতিবেশীদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদন
ওয়ার্নার পরিবার প্রতি বছর প্রতিবেশীদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁদের এই পার্কের মাধ্যমে। অক্টোবর মাসে এই ডাইনোসর-দুনিয়া দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করেন, তোলেন ছবি। এই আকর্ষণ দেখতে কোনও প্রবেশমূল্য দিতে হয় না। আবার হ্যালোউইন মরশুম শেষ হলে সাজসজ্জা খুলে সব কিছু গুছিয়ে রাখা হয় পরের মরশুমের জন্য।
