‘আমার ভাতিজির পায়ে নুপুর ছিল, একটি মরদেহের পায়ে নুপুরটা দেখে মনে হচ্ছে আমার ভাতিজি। এ ছাড়া ভাতিজার হাতে গোল্ডেন ব্রেসলেট ছিল সেটিও দেখেছি। আর বাকিদের চেহারা চেনা যাচ্ছে না’, রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই রিপনের পরিবারের সদস্য।
তারা হলেন- ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিস (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপন বলেন, গতকাল (শনিবার) ১০ জনের মরদেহ মর্গে আনা হয়েছে, যাদের ছয়জনই আমার পরিবারের। পুড়ে যাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে না কোনটা কার মরদেহ।
তিনি জানান, প্রশাসন বলছে ডিএনএ-এর মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হবে এবং আজকেই পরিবারের সদস্যরা মালিবাগের সিআইডির কার্যালয়ে স্যাম্পল জমা দিয়েছেন। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যবহার, মরদেহ কখন পাবো বলা মুশকিল।
মেরিনড্রাইভ লাগোয়া ইকো রিসোর্টটিতে শনিবার সকালে আগুন লাগার পর ফায়ারসার্ভিস ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়, স্বজনদের আনাগোনায় যেখানে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।
এদিকে, রিসোর্ট মালিক তানভীরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫ জনসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় পুলিশের পক্ষে মামলা দায়ের হয়েছে।
উখিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেছেন, রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার সকালে কক্সবাজারের আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অপর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তৎপরতার পাশাপাশি অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এএমকে
