নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম ও অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে যশোরে কর্মিসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের পার্টি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ’ যশোর জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোরের অন্যতম শীর্ষ নেতা গাজী আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন জেলা নেতা পলাশ বিশ্বাস।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিম উর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড নাজিম উদ্দিন, যশোর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান, জেলা কমিটির নেতা অধ্যাপক ইসরারুল হক, সকিনা বেগম দিপ্তি, মনিরামপুর উপজেলা সম্পাদক সিরাজ আহম্মেদ এবং জেলা সদস্য ও অভয়নগর উপজেলার নেতা চৈতন্য কুমার পালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তা উপেক্ষা করে কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত ও সার্বভৌম সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে তুলে দেওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তি করার তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা। একই সাথে সরকারের অপ্রয়োজনীয় ‘বোয়িং’ বিমান কেনার উদ্যোগের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের নতজানু নীতি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জনজীবনের সংকট তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, সার, ডিজেল ও পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়। পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও অসম চুক্তি বাতিল, সার্বভৌম সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনজীবনের সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জনগণকে সাথে নিয়ে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না এবং রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
আলোচনা সভা শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি যশোর শহরের প্রধান প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
