খুলনায় একই দিনে পৃথক ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল নেতা এবং ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তেরখাদা উপজেলায় এবং সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় তাদের গুলি করা হয়। আহত দুজনকেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে আকাশ কুমার কুণ্ড (৪৫) নামে মুদি দোকানদারকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুলিটি তাঁর পেটে বিদ্ধ হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা তিন যুবক আকাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বেঁচে আছেন বলে জানান ওসি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ আকাশ টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের পূর্ব পাশের গলির বাসিন্দা শিব পদ কুণ্ডুর ছেলে।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর বিশ্বাসের ছেলে এবং মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল মোল্লা জানান, সকালে রামিম ভ্যানে করে কোলাবাজারে যাচ্ছিলেন। ভ্যানের ডান পাশে বসা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পিঠের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) কবির আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা সফর করেন। এর মধ্যে দুটি গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটলো।
গত ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা নগরীতে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওইদিন ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামে এক যুবককে প্রতিপক্ষ গ্রুপের দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরার জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে তার মায়ের সামনে মাথায় গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
