বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে কয়েক দশকে উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানির উৎস দুটোই বেড়েছে। তবু দেশটির বিদ্যুৎ খাত এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওয়ার্টসিলা। তারা বলছে, বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির ব্যবহারে ভারসাম্য রাখতে হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইঞ্জিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্টসিলা আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফোরাম’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির বক্তারা এ কথা বলেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্ভরযোগ্য রাখতে ফ্লেক্সিবল পাওয়ার (চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর সক্ষমতা) গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়ার্টসিলা বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গত প্রায় তিন দশকে কয়েক গুণ বেড়েছে। জ্বালানির উৎসেও বৈচিত্র্য এসেছে। এখন বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার, জ্বালানিনিরাপত্তা এবং আর্থিক সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে খাতটির পরবর্তী পথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ফোরামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ জন্য কী ধরনের ফ্লেক্সিবল পাওয়ার উৎপাদনব্যবস্থা, বিকল্প জ্বালানি এবং গ্রিড-সহায়ক প্রযুক্তি দরকার, তা নিয়েও কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ওয়ার্টসিলা এনার্জির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এনার্জি বিজনেস ডিরেক্টর গোরান রিচার্ডসন বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশে ওয়ার্টসিলার ২৮ বছরের কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন তিনি।
পরে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্যাট্রিক ফারকাস বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বহুমাত্রিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা তুলে ধরেন। ফ্লেক্সিবল পাওয়ার উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্বও ব্যাখ্যা করেন তিনি। যেসব দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বেশি, সেসব দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন প্যাট্রিক ফারকাস।
ওয়ার্টসিলা এনার্জি সার্ভিসেসের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার উলরিক ফ্রিস বিদ্যমান তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে এলএনজি ও এলপিজি ব্যবহারের উপযোগী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেনসহ অন্যান্য টেকসই জ্বালানির সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি।
ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জাহেদ হোসেন বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে ওয়ার্টসিলা যুক্ত রয়েছে। এ সময়ে খাতটির বিভিন্ন পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রাহক ও অংশীজনদের পাশে থেকেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মোস্তফা জাহেদ বলেন, ওয়ার্টসিলার সরবরাহ করা ইঞ্জিনভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এখনো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির দক্ষ জনবল এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ওয়ার্টসিলার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেবাকাজে যুক্ত রয়েছেন।
