মা লক্ষ্মী বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পদ্মের উপর আসীন এক রূপসী দেবী মূর্তির। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ধনদেবী কেন ঠিক পদ্মাসনা? পুরাণ বা শাস্ত্রই বা এ নিয়ে কী বলছে?
পুরাণ ঘাঁটলে দেখা যায়, দেবী লক্ষ্মী আসলে নারায়ণের সঙ্গে ক্ষীরোদ সাগরে মহানাগের উপর বিরাজ করেন। সনাতন ধর্মে আবার লক্ষ্মীর বিচরণের জায়গা রয়েছে মোট পাঁচটি। তা হলে এর মাঝে পদ্ম এল কোথা থেকে?
শাস্ত্র বলছে, পদ্ম একান্ত ভাবেই নারীর প্রতীক। তাই দেবীকে পদ্মাসনে বিরাজ করতে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়, তাঁর পুজোয় পদ্ম ফুল এক্কেবারে আবশ্যিক।
এ ছাড়াও পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মী পদ্ম ফুলের উপর অধিষ্ঠিত হয়েই আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই কারণেই তো তাঁকে বলা হয় কমলাসনা।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও এর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘নমঃ কমলবাসিন্যৈ নারায়ণ্যৈ নমো নমঃ/কৃষ্ণপ্রিয়ায়ৈ সারায়ৈ পদ্মায়ৈ চ নমো নমঃ।’ অর্থাৎ, নারায়ণের প্রিয়া তথা পদ্মবাসিনী দেবীকে শতকোটি প্রণাম।
লক্ষ্মী দেবী যে কেবল পদ্মের উপর বসে থাকেন, তা কিন্তু নয়। তিনি স্বয়ং পদ্মপত্রনয়না এবং কমলাস্যমুখী। ফলে পদ্মের সঙ্গে দেবী লক্ষ্মীর গুণগত মিল রয়েছে বিস্তর।
জলে পদ্মের জন্ম। তাই এটি জীবন ও উর্বরতার প্রতীক। আর দেবী লক্ষ্মী হলেন সম্পদ ও জীবনেরই প্রতীক। আদতে এই ফুল দেবীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাঁর পবিত্র আবাস এবং প্রতীকেরও চিহ্ন।
তবে শুধু পদ্মফুলই নয়, ধনদেবীর অধিষ্ঠান রয়েছে আরও নানা জায়গায়। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, দেবী লক্ষ্মী নাকি থাকেন হাতের আঙুলের সামনের দিকে। আবার সনাতনী ঐতিহ্য অনুযায়ী, হাতির কপালের উঁচু জায়গাতেও তাঁর বাস।
