আজকাল ওয়েবডেস্ক: অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন বেতন কাঠামোয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির বিভিন্ন দাবির মধ্যে নজর কেড়েছে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। এই প্রস্তাব সরকার মেনে নিলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেসিক বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এখনও পর্যন্ত এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে সরকারি অনুমোদন মেলেনি।
ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি-এর স্টাফ সাইডের স্মারকলিপিতে অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানানো হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধন এবং ন্যূনতম বেসিক বেতন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব। তবে এটি কর্মচারী সংগঠনের দাবি মাত্র। কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করবে নতুন বেতন কাঠামো।
কেন ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি?
কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, বেতন কাঠামোর পরিবর্তন এবং পেনশনভোগীদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে বেতন সংশোধন করা প্রয়োজন। সেই কারণেই ন্যূনতম বেসিক বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবি জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব অবশ্য এক নয়। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, পেনশন এবং অন্যান্য ভাতা নিয়ে পৃথক পৃথক দাবি রয়েছে। এই দাবিগুলি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য পেশ করা হলেও সেগুলি মানতে সরকার বাধ্য নয়।
৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বেসিক বেতন কত হতে পারে?
বর্তমান সপ্তম বেতন কমিশনের বেতন কাঠামো অনুযায়ী, লেভেল ১ থেকে লেভেল ৫-এর ন্যূনতম বেসিক বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে ২৯,২০০ টাকার মধ্যে। প্রস্তাবিত ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দিয়ে হিসাব করলে সম্ভাব্য বেসিক বেতনের চিত্র হবে নিম্নরূপ।
লেভেল ১: ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮,৯৯৪ টাকা।
লেভেল ২: ১৯,৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৬,২৭৭ টাকা।
লেভেল ৩: ২১,৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৩,১৭৬ টাকা।
লেভেল ৪: ২৫,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৭,৭৪২ টাকা।
লেভেল ৫: ২৯,২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,১১,৯২৪ টাকা।
তবে এই অঙ্কগুলি কেবল গাণিতিক হিসাব। এগুলিকে অষ্টম বেতন কমিশনের অনুমোদিত বেতন বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দিয়ে বেসিক বেতন হিসাব করা হয়; এর অর্থ হাতে পাওয়া মোট বেতন একই অনুপাতে বাড়বে, এমন নয়।
কবে চূড়ান্ত হবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর?
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠিত হয়। সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য কমিশনকে ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের মে মাস নাগাদ রিপোর্ট জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে তা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।
তাই আপাতত ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরকে কর্মচারী সংগঠনের দাবি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিশ্চিত নয়।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
