আজকাল ওয়েবডেস্ক: শচীন তেণ্ডুলকর, যুবরাজ সিং, গৌতম গম্ভীর ও জাহির খানের মতো তারকা ক্রিকেটারদের কেন ভারতীয় দল থেকে সরে যেতে হয়েছিল, সেই কারণ তাঁরা নিজেরাই জানেন। এমনই মন্তব্য করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাটিল। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল নির্বাচকদের।
১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য পাটিল ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান ছিলেন। তাঁর কার্যকালে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তন আসে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জায়গায় ধীরে ধীরে সুযোগ পেতে শুরু করেন তরুণরা।
দূরদর্শনের ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো’-তে উপস্থিত হয়ে পাটিল বলেন, “প্রথমেই স্পষ্ট করে দিতে চাই, এই সিদ্ধান্তগুলি আমি একা নিইনি। পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটি ছিল, যার আমি চেয়ারম্যান ছিলাম।”
শচীন, যুবরাজ, গম্ভীর ও জাহিরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আজ এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে আমার খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু শচীন তেণ্ডুলকর, গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিং এবং জাহির খানের মতো কিংবদন্তিদেরও দল ছাড়তে হয়েছে অথবা অবসর নিতে হয়েছে। কেন এমনটা হয়েছিল, সেই কারণ তাঁরা নিজেরাই জানেন।”
পাটিলের বক্তব্য, নির্বাচকদের কাছে সবার আগে গুরুত্ব পেয়েছিল দেশের স্বার্থ এবং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কাউকে দলে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন না তাঁরা।
নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পাটিল বলেন, “ক্রিকেটারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকতে পারে, কিন্তু একটা সীমারেখা থাকা জরুরি। কেউ আমার বন্ধু বলে আমি তাকে দলে নেব, এমনটা হতে পারে না। এই দায়িত্ব পেলে সেটাকে গুরুত্ব সহকারে পালন করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সেই সময় নিজের ক্রিকেটের কথা ভাবলে চলবে না। ভাবতে হবে ভারতীয় ক্রিকেট এবং তার ভবিষ্যতের কথা। অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা নিতে নিজেরও ভালো লাগে না। কিন্তু ভারতীয় দলের ভালোর জন্য সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রাক্তন প্রধান পাটিল বর্তমানে মুম্বইয়ের সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক পুরুষ ক্রিকেট দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর এই মন্তব্যে ভারতীয় ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দল থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ ফের আলোচনায় উঠে এল।
