নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
জানা অজানা
পুষ্কর উটমেলা : তপন কুমার বৈরাগ্য
২০ অক্টোবর ২০২৬ - ৪র্থ বর্ষ
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমের শহর থেকে প্রায়
১৪কিলোমিটার দূরে আরাবল্লী পর্বতমালার কোলে অবস্থিত
পুষ্কর হ্রদ।ভারতের সবচেয়ে পবিত্র হ্রদ।হ্রদটা অর্ধচন্দ্রাকার
এবং গভীরতা ৮থেকে ১০মিটার।হ্রদটার আয়তন ২২হেক্টর বা
৫৪একর।এখানে আছে ব্রহ্মার মন্দির।সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মার
হাত থেকে এখানে একটা পদ্মফুল পড়েছিল।পুষ্কর মানে পদ্ম।
সেই পদ্ম থেকে পুষ্কর হ্রদের উৎপত্তি।এই হ্রদে আছে ৫২টা স্নানের
ঘাট।হ্রদের চারপাশ দিয়ে আছে সুদৃশ্য হাঁটার রাস্তা।
প্রতি বছর কার্তিক মাসে এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ উট
ও পশুর মেলা হয়।এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক পশু
ও উটমেলা।এখানে চলে উট ,ঘোড়া, গবাদিপশু কেনাবেচা ও প্রদর্শনী। সেইসাথে চলে উটের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও উটের
দৌড় প্রতিযোগিতা।এই উটের সৌন্দর্য ও দৌড় প্রতিযোগিতার
জন্য উটপালকদের সারা বছর যত্নের সাথে উটেদের প্রতিপালন করতে হয়।যাতে তারা প্রতিযোগিতায় সেরা হতে পারে।এর সাথে সেরা গোঁফ প্রতিযোগিতা।যে প্রতিযোগিতাটা বিশ্বের কোথাও হয় না।এই প্রতিযোগিতায় মানষের নানারকম গোঁফ দর্শকদের মনে হাসিকে জাগ্রত করে।রাজস্থানের মানুষের গোঁফ দেখার মতন।
তাই এখানকার মানুষেরা গোঁফের খুব যত্ন করেন।প্রতিযোগিতায়
সেরা গোঁফ যার থাকে সে পুরস্কৃত হয়।এ ছাড়া থাকে পাগড়ি
বাঁধা প্রতিযোগিতা।দড়ি টানাটানি প্রতিযোগিতা।এটা সাধারণতঃ
দেশের এবং বিদেশের পর্যটকদের মধ্যে হয়ে থাকে। রাজস্থান
পর্যটন দপ্তর সফল বিজয়ীদের মেলার শেষদিনে আকর্ষণীয়
ট্রফি,নগদ অর্থ এবং বিশেষ সম্মানসূচক সার্টিফিকেট প্রদান
করেন। এক সপ্তাহ ব্যাপী এই উটের মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায়
থাকে নানান বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য
রাজস্থানি লোকসংগীত, নৃত্য ও নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলাগ্রাউন্ডটা পুষ্কর শহরের পশ্চিমে অবস্থিত একটা বিশাল
সুদৃশ্য উন্মুক্ত স্টেডিয়ামে অনষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর প্রায় ৫০,০০০
উটের এখানে সমাগম হয়,সেইসাথে কয়েক লক্ষ মানুষ।
এই উটঘোড়া নিয়ে থর মরুভূমিতে কয়েকদিনের জন্য এক
সাময়িক শহর গড়ে তোলে।যাকে সাময়িক শহর বা টেন্স সিটি
বলা হয়।পুষ্কর একটা প্রাকৃতিক হ্রদ।যাকে বলা হয় তীর্থরাজ বা
সকল তীর্থের গুরু।কার্তিকমাসের শুরুতে শুরু হয়ে কার্তিকমাসের
পূর্ণিমা পর্যন্ত এই মেলা চলে।ইংরেজির অক্টোবর নভেম্বর মাস।
