পুরান ঢাকার চকবাজারে ‘মনজুর খান প্লাজা’ নামের মার্কেটে লাগা আগুন সাত ঘণ্টাতেও নেভাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
তবে সোমবার রাত ১১টার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তাকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ফায়ার ব্রিগেডের যে কর্মকর্তা এখানে আছে, তার সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এখন আর আগুন নাই, আগুন নিয়ন্ত্রণে’।”
রাত ১২টার দিকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন বলেছেন, তারা এখনো নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেননি।
সবশেষ ঘটনাস্থলে ১০টি ইউনিটের কাজ করার কথা বলেছেন এই কর্মকর্তা।
এদিন বিকাল ৫টার দিকে আগুন লাগার তথ্য পাওয়ার কথা বলেছিলেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
তিনি বলেন, “মার্কেটের ষষ্ঠ তলার একটি দোকানে আগুন লেগেছে। আমরা ৫টা ৪ মিনিটে আগুনের খবর পেয়েছি; এরপর ৫টা ২২ মিনিটে গিয়ে আমাদের ইউনিট কাজ শুরু করেছে।”
প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছিল, পর্যায়ক্রমে ইউনিট বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন বলেছিলেন, “সরু গলির কারণে আমাদের বড় বড় গাড়িগুলো ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানি স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।”
সংস্থাটির আরেক কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লেগেছে। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে। প্রতিটি গুদামই তালাবদ্ধ, তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।”
রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ডিএসসিসি প্রশাসক সালাম বলেন, “কীভাবে আগুন লেগেছে ফায়ার সার্ভিস এখনো বলতে পারছে না। তারা বলেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে, যা যা করার তারা তা করেছে।
“পরবর্তী তদন্তে বের হবে কীভাবে আগুন লাগল। যতটুকু জেনেছি সেখানে ব্যাগের গোডাউন আছে। আশেপাশে কাপড়ের কিছু গোডাউন আছে। ব্যাগের গোডাউন থেকে আগুনটা লাগছে।”
পুরান ঢাকার আগুন লাগলেই সরু রাস্তা আর পানির সংকটের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জায়গাটা আমরা সংস্কার করার জন্য চেষ্টা করছি। আগে কেমিক্যাল থেকে আগুন লাগতো। এখন আর এ এলাকায় কেমিক্যালের বাণিজ্য নাই, আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।”
পুরান ঢাকার পরিস্থিতির বিষয়ে তার ভাষ্য, “আমি আইসাতো আর এটা সৃষ্টি করি নাই। উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যে জায়গায় ৫ হাজার লোকের ফ্যাসিলিটিজ, সেখানে হয়তো ৫ লাখ লোক বাস করে। পুরান ঢাকায় পুকুর এখনো কিছু আছে, সেখানে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছি। পানির লাইন পুরানো হয়েছে গেছে, সেসব সংস্কার করার পরিকল্পনা করেছি। সেগুলো হচ্ছে, করতে সময় লাগবে।”
সোমবারের আগুনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আগুনের নিয়মই আস্তে আস্তে ছড়াবে, কাজেই ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চেষ্টা করেছে। আল্লাহর রহমতে বেশি হয় নাই, অল্পতেই তারা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।”
এ থেকে মার্কেটগুলো ‘শিক্ষা গ্রহণ করবে’ বিশ্বাস করে ডিএসডিসি প্রশাসক বলেন, “অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাটা জরুরি, অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রটা যাতে যার যার জায়গা থেকে রাখে।
“নাগরিক সচেতনতা, সবচেয়ে বড় দরকার। রাস্তার মধ্যে দোকান, ফুটপাত দখল। নিশ্চই এখানেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে সমস্যা হয়েছে। রাস্তাগুলো যাতে পরিষ্কার থাকে। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র যাতে প্রত্যেকটা নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবস্থা রাখে। যন্ত্র থাকলে প্রথমেই আগুনটা নেভানো যায়।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্থদের কীভাবে সাহায্য করতে চায় সেটি তারা বিবেচনা করবেন।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের প্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের তরফে কিছু করণীয় থাকলে সেটিও ‘অবশ্যই করবেন’ বলেও তুলে ধরেন তিনি।
