পিরোজপুরে ফেরিঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর রীনা বেপারি নামে এক গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মধুরাবাধ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দর নৌকা ফেরিঘাটে ডুবির ঘটনা ঘটে।
নিহত রীনা বেপারি নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের শংকর বেপারির স্ত্রী।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন আগে উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরে ট্রলার ডুবির দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার দিনই এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে রীনা বেপারি নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মধুরাবাধ এলাকায় স্থানীয়রা মরদেহটি নদীতে ভেসে উঠতে দেখে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ও নৌ-পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক রায়হানুর আশরাফ বলেন, দুর্ঘটনার দিনই আমরা শিশুর লাশ উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। তবে গৃহবধূ নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, নাজিরপুর থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। ট্রলারে আমাদের উদ্ধার অভিযান চলমান ছিল। সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের মধুরাবাধ এলাকা থেকে মরদেহটি শনাক্ত করা হয়।
নিহতের দেবর মরদেহটি শনাক্ত করার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তা ওই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ট্রলার ডুবির দিনই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। নিখোঁজ নারীর মরদেহ বুধবার সকালে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে যাদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ উঠবে; তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইজারা দেওয়া ঘাটের লোকজনেরও যদি কোনো অবহেলা থেকে থাকে, তবে ঘাটের ইজারা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
