আপনি যদি রহস্যের নেশায় বুঁদ হতে ভালোবাসেন, তা হলে এই ৬ বই আপনারই জন্য। চলুন একে একে দেখে নিই।

৬ বইছবি : এআই
কিছু গল্প আছে, যা পড়তে বসলে আর ওঠা যায় না। রাত গভীর হয়, জ্বলতে থাকে আলো। আর আপনি পাতা উল্টে যান। কখনও গা ছমছম করে। কখনও বুক ধুকপুক করে। আবার কখনও মনে হয়, এ তো সত্য ঘটনা। আপনি যদি রহস্যের নেশায় বুঁদ হতে ভালোবাসেন, তা হলে এই ৬ বই আপনারই জন্য। চলুন একে একে দেখে নিই।
হত্যা শাস্ত্র — অভিজ্ঞান গঙ্গোপাধ্যায়ছবি: সংগৃহীত।
৩২২ খ্রিস্টপূর্বের ভারতবর্ষ। নন্দ সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে সিংহাসনে বসেছেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এই মহাযজ্ঞের মূল কাণ্ডারি ছিলেন আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য। প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে তিনি যখন নিভৃতে ‘অর্থশাস্ত্র’ লেখায় মন দিয়েছেন, তখনই রাজমহলের অন্দরে ও মগধের বুকে একের পর এক ঘটতে শুরু করে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। রাজদূত খুন থেকে শুরু করে তক্ষশিলার ব্যাখ্যাতীত প্রেতমূর্তি আর অপমৃত্যু — সব জট পাকাতে শুরু করে। আর যখন রহস্য সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন ডাক পড়ে সেই ব্রাহ্মণের। আচার্য চাণক্য কি পারবেন চতুর অপরাধীকে খুঁজে বের করতে?
সূর্যতামসী — কৌশিক মজুমদারছবি: সংগৃহীত।
রহস্য সিরিজ় পড়ার নেশা রয়েছে? বহুদিন ধরে কি কোনও দুর্দান্ত ডিটেকটিভ বইয়ের অভাব বোধ করছিলেন? সেই অভাব পূরণ করতে এল কৌশিক মজুমদারের ‘সূর্যতামসী’। উনিশ শতকের কলিকাতা, যাদুবিদ্যা, ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র, ফ্রিম্যাসনের গুপ্ত সমিতি আর বেশ কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান চন্দননগরের খুনোখুনি ও গুপ্তধনের এক অদ্ভুত সংযোগ। একবার পড়তে শুরু করলে বই শেষ না হওয়া অবধি দুনিয়ার সমস্ত কিছু ভুলতে বাধ্য হবেন। আর বইয়ের অন্তিমে এমন এক চমক রয়েছে, যা আপনাকে বইটি দ্বিতীয়বার পড়তে বাধ্য করবে।
শেষ মৃত পাখি — শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যছবি: সংগৃহীত।
পঁয়তাল্লিশ বছর আগে দার্জিলিংয়ের এক সম্ভাবনাময় কবি অমিতাভ মিত্র খুন হয়েছিলেন। অভিযোগের তির ছিল তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রহস্য-ঔপন্যাসিক অরুণ চৌধুরীর দিকে। কিন্তু নানা পরস্পরবিরোধী প্রমাণে সে অভিযোগ আর টেকেনি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তনয়া এই অমীমাংসিত খুনের কাহিনি নিয়ে ধারাবাহিক লিখছেন। সেই রহস্যের খোঁজে তিনি এ বার পা রাখলেন পাহাড়ি শহর দার্জিলিঙে। তনয়া কি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাবেন এই জটিল হত্যারহস্যের সমাধান?
শোধ — শিহব্রত বর্মনছবি: সংগৃহীত।
দেশজুড়ে তখন রক্ত-অশ্রু-বারুদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অধিকৃত দেশে চলছে শত্রু খোঁজার মরিয়া অভিযান। এই পটভূমিতে রয়েছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দাবাড়ুর গল্প। তাঁরা একে অন্যের বিরুদ্ধে দিতে থাকেন ঘুঁটির সূক্ষ্ম চাল। কিন্তু তাঁদের এই তিক্ত দ্বৈরথ শুধু দাবার বোর্ডের ৬৪ খোপের চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ছড়িয়ে পড়ে আরও অনেক দূরে। উত্তেজনায় ভরপুর এক ভিন্ন স্বাদের গল্প।
অসচরাচর — মাসুদুল হকছবি: সংগৃহীত।
ডাক্তারি পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার আসিফ দীর্ঘদিন নানা প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোগী দেখে বেড়িয়েছেন। সে সময়ে তিনি এমন কিছু বিচিত্র মানুষ পেয়েছেন যাঁদের রোগব্যাধি প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান দিয়ে সবসময় ব্যাখ্যা করা যায় না। তাঁর মনে হয়েছে, সবসময়ে রোগেরা বইপত্রে যেমনটা লেখা থাকে তেমন করে আসে না, আবার সব রোগের খবরও আমাদের জানা নেই। প্রিয় শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় আসিফ সেই সব অদ্ভুত ও অচেনা রোগ আর মানুষের গল্প নিয়ে লিখতে শুরু করলেন, যার ফলশ্রুতিই এই ‘অসচরাচর’।
অসচরাচর — মাসুদুল হকছবি: সংগৃহীত।
‘একটা খুনের চিন্তা মাথায় নিয়ে আমি শহরের রাস্তায় হাঁটছি। ভাবছি, যে মৃত্যু কামনা করছে তাকে মারলে সেটা খুন হবে নাকি উপকার করা হবে?’ সাধারণ রাস্তায় হাঁটা মানুষগুলোকে দেখলেই লেখকের মাথায় নানা অদ্ভুত ভাবনা খেলে যায়। যে লোকটা চায়ের দোকানে সময় কাটায়, যে মহিলাটা বোরখা পরে অফিস থেকে বাচ্চা নিয়ে ফেরে, কিংবা রাস্তার ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষগুলো— প্রত্যেকের মুখ দেখে লেখকের মনে হয়, যার মনে মায়া নেই, তার পক্ষে ভয়ঙ্কর সব কাজ করা সম্ভব! যতই ভাবছেন, ততই নিজেকে খুব বিপজ্জনক মনে হচ্ছে তাঁর। মানুষের মনের অন্ধকার কোণ নিয়ে লেখা এক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
