বগুড়ার ফাঁপড়ে ২০০ বছরের পুরনো জলাশয় ভরাট ও দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপড় এলাকায় সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য প্রায় ২০০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ভরাট ও দখলের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে বগুড়া সদরের ১ নম্বর ফাঁপড় ইউনিয়নের ফাঁপড় গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাহারপুকুর জলাশয়টি রক্ষা এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে এলাকায় শত শত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, তৎকালীন জমিদারদের রেখে যাওয়া সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য এই জলাশয়টি স্থানীয় অধিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই জলাশয়টি তাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন ফসল ভিজানো ও শুকানো, জমিতে সেচ দেওয়া, গোসল এবং গবাদিপশুকে ধোয়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে দীর্ঘকাল ধরে পুকুরটি ব্যবহার করে আসছেন। এ ছাড়া এটি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থের এই জলাশয়টি দখলের অপচেষ্টা ও পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী ব্যক্তি। সম্প্রতি তারা পুকুরটি ভরাট করতে শুরু করলে এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা অনতিবিলম্বে অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে জলাশয়টিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে এলাকার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত এই দখল ও ভরাট বন্ধ না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এলাকাবাসীর পক্ষে শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন: মো. হাসান, হারুনুর রশিদ, মানু মিয়া মানিক, মইন উদ্দিন, হোসেন, জহুরুল ইসলাম এবং হাসেন আলীসহ স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ।
