শান্তিপুরের বামাকালীর ঐতিহ্য ছড়িয়ে রয়েছে গোটা বাংলাজুড়েই। বিসর্জন শোভাযাত্রার সময় বামাকালী একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নাচেন। বছরের পর বছর ধরে সেই প্রথা চলে আসছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ সেই নাচ দেখার জন্য উপস্থিত হন। কিন্তু এবার আর ওই জায়গায় নাচবেন না বামাকালী। সেই কথা ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল ছড়িয়েছে ভক্তদের মধ্যে।
দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বড় বিপর্যয় হয়। প্রতিমা দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট, দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন সাধারণ মানুষের। তাহলে কি চোরবাগানের ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? বামাকালীর নাচ দেখতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন বিসর্জনের রাতে। বামাকালীকে বাঁশের কাঠামোর উপরে বসিয়ে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয়। কাঁধে থাকা অবস্থাতেই নির্দিষ্ট সময় বিশাল ওই প্রতিমা নাচানো হয়। সেসময় কোনও দুর্ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা কি চোরবাগানের পর করা হয়েছে? সেই থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
এতদিন পর্যন্ত শান্তিপুরের বড়বাজার এলাকায় সংকীর্ণ রাস্তায় প্রতিমার নাচ দেখা যেত। এবার সেই নৃত্য বড়বাজারের পরিবর্তে মন্দিরের নিকটবর্তী বেজপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী বামাকালীর বিসর্জন নৃত্য বা শোভাযাত্রার স্থান পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সেই বিষয়ে এবার মুখ খুললেন পুজো উদ্যোক্তারা। কমিটির স্পষ্ট বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচার।
কমিটির সভাপতি সুখেন্দুবিকাশ চৌধুরী ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন, কলকাতার চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত বছর কালীপুজোর পর থেকেই ভিড় সামলানো ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই ভাবনা শুরু হয়েছিল। গতবার পর্যন্ত বড়বাজার এলাকায় সংকীর্ণ রাস্তায় প্রতিমার নাচ দেখা যেত। যেখানে বিপুল ভক্তসমাগমও হত। ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকত। অন্যান্য শোভাযাত্রার পথও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ত। ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা চলে। এরপরেই সব দিক বিবেচনা করে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার বামাকালীর নাচ বড়বাজারের পরিবর্তে মন্দিরের নিকটবর্তী বেজপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছর নাচের এই বিরল মুহূর্ত দেখার জন্য ভক্তদের ভিড় বাড়ছে। সেজন্য এই সিদ্ধান্ত। মাঠে একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে মায়ের ওই নাচের মুহূর্ত দর্শন করতে পারবেন। প্রায় ৪০ জন অভিজ্ঞ বাহক কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করবেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ-প্রশাসন, ব্যারিকেড, ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল থাকবে। মাঠে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দেবী পুজোর ইতিহাস বিকৃতি নিয়েও মুখ খুলেছেন উদ্যোক্তারা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই পুজোকে ৩০০, ৫০০, ৬০০ বছরের প্রাচীন বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যমুনা দেবীর স্বপ্নাদেশে শুরু হওয়া এই পুজো এবার ৫৮ বছরে পদার্পণ করেছে। এমনই জানানো হয়েছে। চলতি বছর আগামী ৯ নভেম্বর রাতে বামাকালীর এই নাম ওই মাঠে হবে। এরপর চিরাচরিত নিয়মে বড়বাজার ঘাটে বিসর্জন হবে। সেই বার্তাও পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে।
