কালবেলা · সাধারণ
মাগুরায় নিহত সেই যুবদল নেতার মাথা থেকে গুলি উদ্ধার
২১/১০/২০২৬

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনের মাথা থেকে গুলির কার্তুজ উদ্ধার করেছেন চিকিৎসক। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে এ কার্তুজ বের করা হয়।
এ ঘটনায় সাকের হোসেনের মৃত্যু যে গুলিতে হয়েছে, তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত সাকের হোসেনের মাথা থেকে গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মৃত্যু দুর্বৃত্তের গুলিতে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এর আগে বুধবার ভোর ৬টার দিকে শহরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে যান সাকের হোসেন। একপর্যায়ে তাকে কাউন্টারে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুরুতে তার মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মরদেহ গোসল করানোর সময় স্বজনরা মাথার পেছনে ক্ষত দেখতে পান। এতে তাদের সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানিয়েছিলেন, সাকের হোসেনকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, সাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এর আগে বলেছিলেন, সাকের হোসেনের মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আলামত সংগ্রহসহ তদন্ত চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
সাকের হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় শহরের পারনান্দুয়ালী ঢাকারোড এলাকায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗