আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, হামলাকারীর বয়স ১৬ বছর। সশস্ত্র এক ব্যক্তি তাকে পরে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। বেন্ড শহরে সিলভার রেইল এলিমেনটারি স্কুলে এ গুলির ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেন্ডের পুলিশপ্রধান মাইক ক্রানজ বলেন, এক ব্যক্তি প্রথমে হামলার খবর জানান। বড় বন্দুক হাতে একজন একাধিকবার গুলি করেছে বলে তিনি জানান। পরে জানা যায়, বন্দুকধারী স্কুলে ঢুকেছে। পুলিশ স্কুলটি ঘিরে ফেলে। ভেতরে ঢোকার পর জানা যায় সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন।
পুলিশ প্রধান আরও জানান, নিহত তিন শিশুর বয়স, পাঁচ, আট ও ১১ বছর। আহত আরেক শিশুর বয়স সাত বছর। আর আহত শিক্ষকের বয়স ৫৪ বছর। হামলাকারী বেন্ড শহরের বাসিন্দা বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কি না কিংবা স্কুলটির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বেন্ড পুলিশ জানায়, দুপুর একটার কিছু আগে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করে এক ব্যক্তি জানান, স্কুলের বাইরে তার গাড়ি লক্ষ্য করে লম্বা বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়ছে একজন।
এর কয়েক মিনিটের মাথায় স্কুলভবন থেকেও একাধিক কল আসতে থাকে। হামলাকারী বন্ধ দরজার লক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল।
স্কুলের ভেতরে এমন পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা হামলাকারীকে ধাওয়া করে স্কুলের ভেতরে ঢোকেন এবং পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে প্রতিহত ও হত্যা করেন।
খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হামলাকারী কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে।
নির্মম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রশাসনিক প্রধান স্টিভেন কুক বলেন, এমন বিবেকহীন এক ট্র্যাজেডিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তব্ধ। আমাদের কমিউনিটি যে শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৪৫০ শিক্ষার্থীর এই স্কুলটিতে বিশেষ নিরাপত্তা দরজা লাগানো হয়েছিল, যা মাত্র একটি সুইচের সাহায্যে ক্লাসরুম ভেতর থেকে লক করে দেওয়া যায়।
কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে গুলির ২৩৫টি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত এমন ঘটনার সংখ্যা অন্তত ১৪০টি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ