ভারতের গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা এলাকায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ফরেনসিক দল ও তদন্তকারী ইউনিট ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা জানাজানি হয়। খবর এনডিটিভির।
নিহতরা হলেন—মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাদের দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাত (৩) এবং মেয়ে মিষ্টি (৭)।
প্রতিবেশী ও মহেশের মা জানান, আগের রাতে পরিবারটি নুডলস খেয়েছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অ্যাম্বুলেন্স এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে বিজেপির জেওয়ার কেন্দ্রের বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিং জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবারটি যে খাবার খেয়েছিল তাতে কোনো বিষাক্ত উপাদান ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে এই মৃত্যু হয়েছে—সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধীরেন্দ্র সিং আরও বলেন, ‘তিন শিশুসহ একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। পুলিশ, প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের দলগুলো তদন্ত করছে।’
গ্রেটার নয়ডার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শ্রবণ কুমার সিং সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বলেন, ‘রাবুপুরায় একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে; স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ফরেনসিক দলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ তদন্ত চালাচ্ছে।’
ডিসিপি শ্রবণ কুমার সিং জানান, পরিবারটি রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে ঘুমাতে গিয়েছিল। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
শ্রবণ কুমার সিং বলেন, তারা (শুক্রবার) রাত ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে খাবার খেয়েছিল। আজ সকালে বিষয়টি সামনে আসে। তারা কী খেয়েছিল তার ওপর ভিত্তি করে আমরা তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বিস্তারিত তদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিবেদন হাতে এলে ঘটনার আসল রহস্য এবং কেন এমনটা ঘটল, তা জানা যাবে।
প্রতিবেশীদের দাবি, নুডলস রান্না করেছিলেন মহেশের মা।
এদিকে, প্রতিবেশীরা অভিযোগ করে জানান, বাড়িতে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। তারা জানান, মহেশের মা আগেই সম্পত্তি নিজের মেয়ের নামে লিখে দিয়েছিলেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
প্রতিবেশীরা আরও দাবি করেন, মেলা ঘুরে বাড়ি ফিরে আসার পর মহেশের মা নুডলস রান্না করে পরিবারের সবাইকে খেতে দিয়েছিলেন।
প্রতিবেশীরা এএনআইকে বলেন, শিশুরা তখন ঘুমাচ্ছিল। মহেশের মা ঝগড়া করছিলেন এবং বলছিলেন, তিনি তাদের এখানে থাকতে দেবেন না। তিনি সব সম্পত্তি নিজের মেয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। তিনি তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন।
প্রতিবেশীরা যোগ করেন, তাদের মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া হতো। তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: ভারত
১ ঘন্টা আগে
১০ ঘন্টা আগে
১৫ অক্টোবর ২০২৬
