আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিল সে। ইচ্ছে ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে দেবী দুর্গাকে দর্শন করার। কিন্তু সেই আনন্দই যে জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি প্রাঞ্জল সরকার। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারাল নবম শ্রেণির এই ছাত্র। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই থেমে গেল প্রতিশ্রুতিমান এক কিশোরের জীবন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার তেঁতুলতলা এলাকায়।
পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে কলকাতার চোরবাগানে এসেছিল প্রাঞ্জল। বাবা অনুকূল সরকার এবং মা প্রিয়াঙ্কা সরকারের হাত ধরে মণ্ডপে ঢুকেছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। শুরু হয় বৃষ্টি। সেই সময় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এবং বেরনোর পথ খুঁজতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পিছন থেকে প্রবল ধাক্কাধাক্কির জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কে কোন দিকে যাবেন, তা বুঝে ওঠার আগেই ভিড়ের চাপে একের পর এক মানুষ পড়ে যেতে থাকেন। কেউ উঠে দাঁড়াতে পারলেও অনেকে আর উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেই প্রাণ হারায় প্রাঞ্জল। ঠাকুর দেখা শেষে বাবা-মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফেরার বদলে নিথর দেহে ফিরতে হল তাকে।
কিন্তু প্রাঞ্জল শুধু পরিবারের আদরের সন্তানই ছিল না, খেলাধুলোর জগতেও তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ছিল। নবম শ্রেণির ছাত্র প্রাঞ্জল সাঁতারেও যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিল। রাজ্যভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল সে। যে বয়সে জীবনের নতুন স্বপ্ন দেখার কথা, যে সময়ে পড়াশোনা আর খেলাধুলোয় নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই মর্মান্তিক পরিণতি হল তার।
প্রাঞ্জলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই আগরপাড়ার তেঁতুলতলা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। যে পরিবার উৎসবের আনন্দে সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, সেই পরিবারকেই এখন সামলাতে হচ্ছে অকল্পনীয় শোক। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা অপেক্ষা করছেন প্রাঞ্জলকে শেষবারের মতো দেখার জন্য।
