তেহরান,২০ অক্টোবর-হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বাধায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির এক বিবৃতির বরাতে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর পরিচালিত একটি নতুন ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির আকাশে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর’ ড্রোনটি শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে ড্রোনটিকে বাধা দেওয়া এবং ধ্বংস করার এ ঘটনা ঘটেছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা পরিষেবার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযান এবং ড্রোনের সংখ্যা অন্তত ৮১টি। এসব আকাশযান ও ড্রোনের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।
বিরল এই দাপ্তরিক তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বিমানগুলোর মধ্যে এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ জঙ্গিবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপারের মতো দেশটির সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও আকাশযানের নাম রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোন হারিয়েছে। প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের দাম তিন কোটি থেকে পাঁচ কোটি ডলার।
আইআরজিসির ড্রোন ধ্বংসের সর্বশেষ দাবিটি সত্য হলে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোনের সংখ্যা বেড়ে ৪৬টিতে দাঁড়াবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি প্রায় কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে ইরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬
