জয় বা পরাজয় কারো জন্য কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। মানুষের কর্ম, যোগ্যতা, এর নিয়ামক হতে পারে। ‘কর্মফল’ বলে একটা কথাও মানব সমাজে প্রচলিত আছে। আবার স্রষ্টার বিচারের কথাও কখনো কখনো উচ্চারিত হয়।
জয় বা পরাজয় কারো জন্য কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। মানুষের কর্ম, যোগ্যতা, এর নিয়ামক হতে পারে। ‘কর্মফল’ বলে একটা কথাও মানব সমাজে প্রচলিত আছে। আবার স্রষ্টার বিচারের কথাও কখনো কখনো উচ্চারিত হয়। এসব বিষয় এখন জড়িত হয়ে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টির সাথে। আগামী নবেম্বরে আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসে মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচন এমন একটি সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন তীব্র মূল্যস্ফীতিতে ভুগছে দেশটি। বুধবার আমেরিকার ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের (বিএলএস) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগে আগস্টে এ হার ছিল ৩.৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির জেরে আমেরিকায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এর বড় কারণ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এছাড়া শীতে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িঘর উষ্ণ রাখার জন্য তেলের দাম গত বছরের চেয়ে ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। অবকাশ কাটাতে পর্যটনে যেতে মার্কিনীরা মূলত বিমানের ওপর নির্ভর করেন। সেই বিমান যাতায়াতের ভাড়া এক বছরে বেড়েছে ২২.৪ শতাংশ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইল আগ্রাসন শুরু করে। এর জেরে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সারাবিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। হরমুজে অবরোধের ফলে আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর ফলে আমেরিকায়ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতির এই হার ১৯৯০ সালের পর করোনা মহামারি ছাড়া এটিই সর্বোচ্চ। মার্কিন ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মার্কিন থিংক ট্যাংক সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফাইল মুর আলজাজিরাকে বলেন, ‘ইরানে লক্ষ্যহীনভাবে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা তৈরি করেছে। এর ফলে খাবার ও জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।’ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাড়ির প্রধান জ্বালানি গবেষক প্যাট্রিক ডিহ্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘২০২৬ সাল অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি গ্যালনপ্রতি চার ডলারে জ্বালানি বিক্রির দিন দেখেছে।’
মূল্যস্ফীতির এমন অবস্থায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির ওপর ক্ষোভ বাড়ছে ভোটারদের। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ৭৮ ভাগ আমেরিকানই ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন। ট্রাম্পকে সমর্থন করা রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৫৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির জন্য প্রশাসনকে দায়ী করছেন। মঙ্গলবার আলাস্কার ওয়াসিলা শহরে এক সমাবেশে নিজের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যখনই তারা আমাকে আক্রমণ করতে চায়, তখনই জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা বলে।’ অনাকাংখিত যুদ্ধের কারণে জীবযাত্রার ব্যয় বড়লে মানুষতো কথা বলবেই। আর এর প্রভাব ভোটের বাক্সে পড়তে পারে। তবে কি কর্মের ফল ফলতে শুরু করেছে?
