টস জিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমীকরণটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে উঠতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এ ম্যাচে বাংলাদেশকে ন্যূনতম ৪১ রানে জিততে হবে। হৃদয় তাই টসের সময়ই ভালো একটা শুরুর আশার কথা বলেছিলেন।
কিন্তু মানুষ চায় এক, ঘটে আরেক। ১.৩ ওভারে ৬ রানে বাংলাদেশের ২ উইকেট নেই! ৭ ওভারের মধ্যে ২৮ রানে নেই বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে চারজন। হৃদয়ও তাঁদের একজন। তখন কারও কারও মনে হতেই পারে, ৪১ রানে জিততে যেমন পরিপুষ্ট পুঁজির দরকার, সেটা হবে তো!
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থক হলে গতকালের মতো এমন শঙ্কায় পড়াও নতুন কিছু নয়। দেখতে দেখতে অভ্যাস হয়ে যাওয়ার কথা কিংবা গায়ে হয়তো সয়ে এসেছে। বড় কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আগে ট্রফি জয়ের স্বপ্নের কথা শোনা যায় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। কিন্তু মাঠে সেই স্বপ্নই পরিণত হয় ১.৩ ওভারে ৬ রানে ২ উইকেট হারানোর মতো দুঃস্বপ্নে। কিংবা ৪১ রানে জয়ের সমীকরণ মাথায় রেখে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরো ৫০ ওভারও খেলতে না পারা, ১৬০ রানে অলআউট হওয়া। অর্থাৎ মুখের কথার প্রতিফলন নেই মাঠে।
চোটের কারণে লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া হৃদয় ঠিক সে কথাই স্বীকার করলেন। আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায়ের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, ‘আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে যখন খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’
হারের কারণটা সবারই জানা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেটাই বলে গেছেন হৃদয়, ‘শুরুতে আমরা কিছু উইকেট হারাই। আমার মনে হয় এটাই মূল কারণ।’ তা, ক্রিকেট খেলায় তো এমন নতুন নয়। শুরুতে কয়েকটি উইকেট পড়লেও ভালো দল মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দিয়ে সেই চাপ কেটে বেরিয়ে আসে।
কিন্তু বাংলাদেশ দলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কোথায়? ব্যাটিং অর্ডারে বেশির ভাগই যে ওপেনার কিংবা অন্তত একবার হলেও ওপেন করার অভিজ্ঞতা আছে! গতকালের ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী প্রথম ৭ ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধু হৃদয়েরই ওপেন করার অভিজ্ঞতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে পাইপলাইনে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় আছে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরেই হৃদয় বললেন, ‘একটা জায়গা নিয়ে বলতে চাচ্ছি না; কারণ, ব্যাটিং ইউনিট পুরাটাই একসঙ্গে ব্যর্থ হয়েছি। পাইপলাইনে অবশ্যই পর্যাপ্ত খেলোয়াড় আছে।’
বাংলাদেশ এক সময় ওয়ানডে ভালো খেলত। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। বিশেষ করে ঘরের বাইরে। গত জুলাইয়ের আগে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ হারেও ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতাটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে ১৪১ তাড়া করতে পারেনি। পরের ম্যাচে পারেনি ২৩৪ তাড়া করতে। এরপর আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুটি ম্যাচের একটিতেও দুই শ রানও করতে পারেনি।
সমস্যাটা কোথায়? জানতে চাওয়া হয়েছিল হৃদয়ের কাছে। তাঁর উত্তর, ‘একটা-দুটো ম্যাচ বা এক-দুইটা সিরিজ দিয়ে আমি পুরো দলকে বলতে চাই না যে, দলের কী হলো! আমি বলব দল ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু আমরা ব্যাটিং ইউনিট বাইরে যে কয়টা ম্যাচ খেলেছি, টানা খুব বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দলই ভুগছে।’
আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন হৃদয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ আমাদের জন্য বড় সুযোগ। আমাদের অবশ্যই ভালোভাবে বসে বা যেকোনোভাবে দলটাকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে; কারণ, এশিয়া কাপ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ। আশা করি, ইনশা আল্লাহ আমরা ভালো কিছু করব।’
আবারও সেই প্রতিশ্রুতিই ঝরল হৃদয়ের কণ্ঠে। এবার তা কাজে ফলবে কি না, কে জানে!