আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে একটি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও স্প্লিন্টার উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাকিবুল ইসলাম নামে এক বাইক শোরুমের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিকভাবে ওই গাড়ি থেকে প্রায় ৩ কেজি বিস্ফোরক এবং ১০ কেজি স্প্লিন্টার উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি। কোথা থেকে এই সামগ্রী আনা হয়েছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা এলাকায় একটি গাড়িতে বিস্ফোরক মজুত থাকার খবর পায় বেঙ্গল এসটিএফ। সেই সূত্র ধরেই গাড়িটির উপর নজরদারি শুরু হয়। পরে রাতে গাড়িটি আটক করে তার মালিক রাকিবুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গাড়িটি নিয়ে কলকাতার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরক কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। উদ্ধার হওয়া গাড়িটির নম্বর WB 26 BQ 1786।
চারটি বাইকের শোরুম রয়েছে ধৃতের
জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে মেকানিকের কাজ ছেড়ে বাইকের শোরুমের ব্যবসা শুরু করেন রাকিবুল। বর্তমানে দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা, বিড়া এবং দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর চারটি শোরুম রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে আরও একটি পুরনো ঘটনা। কয়েক বছর আগে আমডাঙায় একটি বাইকের শোরুমে বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলে জানা যাচ্ছে। সেই শোরুমের মালিকও রাকিবুল ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। তবে আগের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বিস্ফোরক উদ্ধারের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে এনআইএ, এনএসজি ও ফরেনসিক দল
বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর সামনে আসার পর রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এনআইএ, এনএসজি, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল, সিআইডি এবং পুলিশের বম্ব স্কোয়াড। ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রীও খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে অ্যামোনিয়া, সিঁদুর এবং জালের লোহার কাঁটিও রয়েছে বলে দাবি। তবে উদ্ধার হওয়া পদার্থের প্রকৃতি, বিস্ফোরক হিসেবে তার কার্যক্ষমতা এবং সম্ভাব্য বিপদের মাত্রা পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, রাকিবুলের বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াতের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। ব্যবসায়িক কারণে তাঁর যাতায়াত ছিল কি না এবং তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িটি ঘটনার দু’দিন আগে থেকেই দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা রোডে ‘রোড কিং’ শোরুমের পাশে দাঁড় করানো ছিল বলেও জানা গিয়েছে।
কোথা থেকে এল বিস্ফোরক, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা
এই ঘটনায় দত্তপুকুর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিস্ফোরক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কার নির্দেশে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
তবে বিস্ফোরকের প্রকৃতি, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং কোনও সংগঠিত চক্রের যোগ সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির উপরই এখন নজর রয়েছে।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
