প্রতীকী ছবি এই সময়
Published on
:
2 min read
এই সময় কাঁথি: পরিবার বলতে যা বোঝায়, এদের কারওরই তা নেই। কারও বাবা আছে, মা নেই। আবার কারও মা–বাবা দু’জনেই নেই। অনাথ আশ্রমেই তাদের শৈশব থেকে কিশোরবেলা কাটে। আশ্রমের মধ্যে ঘরোয়া পরিবেশে বড় হয়ে উঠলেও নিয়মের বেড়াজালে পুজোর সময় যখন তখন বেরিয়ে পড়ে ঠাকুর দেখার আনন্দ তাদের ক্ষেত্রে ঘটে না। তাই সবাই যখন পুজোর আনন্দে মেতে উঠতো, তখন আশ্রমের জানালা দিয়ে বাইরের সেই ছবির দিকে মন খারাপের চোখে তাকিয়ে থাকতো তারা। যা নজর এড়ায়নি আশ্রম কর্তৃপক্ষের। সত্যিই তো, পুজোর আনন্দ তো সবার জন্যই। ওরাই বা কেন সেই আনন্দ থেকে দূরে থাকবে! ব্যস, শুরু হলো আশ্রমের দুর্গাপুজো।
নয় নয় করে সতেরোটা বছর পার করে এ বার আঠারোর সাবালকত্বে পা দিয়েছে পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের দুর্গাপুজো। ষষ্ঠী থেকে দশমী পুজোর কয়েকদিন তাই আবাসিকদের অনাবিল আনন্দে কোনও নিয়মের বেড়াজাল নেই। শুধু পুজো দেখা নয়, পুজোর আয়োজন থেকে আমন্ত্রণপত্র বিলি, আলপনা দেওয়া, নিজেদের হাতেই আশ্রম চত্বরকে সাজিয়ে তোলেন আবাসিকরা। আশ্রমের প্রধান বলরাম করণ বলেন, ‘এখানকার প্রতিটা ছেলেমেয়ে আমার সন্তানের মতো। পুজোর সময় ছেলেমেয়েরা নতুন জামাকাপড় পরে আনন্দে মেতে উঠবে না তাই কখনও হয়! ২০০৮ থেকে আশ্রমে পুজো হয়ে আসছে। যার পিছনে রয়েছে অনেকের আন্তরিক সহযোগিতা।’ শুধু আশ্রমপ্রধান নন, তাঁর মেয়ে ময়না করণ পাল, শিক্ষক বুদ্ধদেব জানা, সুকুমার সামন্ত, মনোজ কুমার দে, চায়না করণ–সহ আবাসিকরা সবাই নেমে পড়েছেন পুজোর আয়োজনে। এবারও পুজোয় ছেলে মেয়েদের হাতে নতুন জামাকাপড়, বেড কভার, গামছা, বালিশ, জুতো তুলে দেওয়া হয়েছে প্রতি বছরের মতো।
একচালার সাবেক প্রতিমা। পুজোর পাশাপাশি রয়েছে ভোগপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা। বর্তমানে এই অনাথ আশ্রমে আবাসিকের সংখ্যা ১৫০ জন। পুজোর সময় প্রাক্তন আবাসিকদের পাশাপাশি শুভানুধ্যায়ীরাও আসেন পুজোয় যোগ দিতে। আশ্রমের অন্যতম কর্মকর্তা ময়না করণ পাল জানালেন, বোধন থেকে বিসর্জন সবই করেন আবাসিকরা। আশ্রমের এই পুজোয় সামিল হন এলাকার মানুষও।
Q
১. এই সংবাদটি কোন অনাথ আশ্রমের দুর্গাপুজো নিয়ে লেখা?
A
এই সংবাদটি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির ‘পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম’-এর দুর্গাপুজো নিয়ে লেখা।
Q
কত বছর ধরে এই অনাথ আশ্রমে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে?
A
২০০৮ সাল থেকে এই আশ্রমে পুজো শুরু হয়েছে। এ বছর (১৭ বছর পার করে) আশ্রমের পুজো ১৮ বছরে পা দিল।
Q
আশ্রমে দুর্গাপুজো শুরু করার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
A
সাধারণ পুজোর সময় আশ্রমের নিয়মের বেড়াজালে আটকে থেকে অনাথ শিশুরা যাতে বাইরে ঠাকুর দেখতে না পেয়ে মন খারাপ না করে, তাই তাদের অনাবিল আনন্দ দিতে ও সবাই মিলে পুজোর আনন্দে শামিল হতেই আশ্রম কর্তৃপক্ষ এই পুজোর সূচনা করেন।
Q
বর্তমানে এই অনাথ আশ্রমে মোট কতজন আবাসিক রয়েছে?
A
বর্তমানে এই অনাথ আশ্রমে মোট ১৫০ জন আবাসিক রয়েছে।
Q
আশ্রমের পুজোয় আবাসিকদের ভূমিকা কী থাকে?
A
ষষ্ঠী থেকে দশমী আবাসিকদের ওপর কোন নিয়মের কড়াকড়ি থাকে না। পুজো দেখার পাশাপাশি তারা নিজেদের হাতেই আশ্রম সাজানো, আলপনা দেওয়া, নিমন্ত্রণপত্র বিলি করা এবং বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত পুজোর সমস্ত আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
Q
পুজো উপলক্ষ্যে আবাসিকদের কী কী উপহার দেওয়া হয়?
A
প্রতি বছরের মতো এবারও প্রতিটা ছেলেমেয়ের হাতে নতুন জামাকাপড়, জুতো, বেডকভার, বালিশ এবং গামছা তুলে দেওয়া হয়েছে।
Q
আশ্রমের প্রধানের নাম কী এবং তাঁর মন্তব্য কী ছিল?
A
আশ্রমের প্রধান হলেন বলরাম করণ। তিনি জানান, এখানকার প্রতিটি ছেলেমেয়ে তাঁর সন্তানের মতো। তাই পুজোর সময়ে নতুন জামা পরে তারা আনন্দে মেতে উঠবে না, তা কখনও হতে পারে না।
Q
এখানকার দুর্গাপুজোর প্রতিমা ও পুজোর ধরণ কেমন?
A
এখানকার প্রতিমা হলো একচালার সাবেক প্রতিমা। পুজোর পাশাপাশি এখানে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের জন্য ভোগপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকে।
