১ ঘণ্টা আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৪২ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়, প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা এবং নিজেদের প্রচার জোরদার করতে দুই পক্ষই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও, ডিপফেক ও ভোটারদের তথ্য ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে নেতানিয়াহু শিবির।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে প্রায় সমান সমর্থন দেখা যাচ্ছে। ফলে ছোট দলগুলোর অবস্থান এবং ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অনলাইনে দুই পক্ষের প্রচারে এমন সব বিজ্ঞাপন ও বিকৃত বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, যেগুলোতে প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হবে, এমন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। কোনো ভিডিওতে নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা সামনে আনা হচ্ছে, আবার কোনো ভিডিওতে বিরোধীদের আরব দলগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের উদারপন্থী সংবাদপত্র হারেৎজ জানায়, ইরান সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তৈরি কয়েক ডজন অনলাইন বটকে এখন নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টির পক্ষে প্রচার চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বটের মাধ্যমে আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের মতো বিরোধী নেতাদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একইসঙ্গে দুই শিবিরই এক্সে এআই দিয়ে তৈরি ও ডিপফেক ভিডিও ছড়াচ্ছে। এসব ভিডিওর কয়েকটিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার আগে নেতানিয়াহুর কথিত ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যগুলোতে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সঙ্গে বিরোধীদের সম্পর্ককে প্রচারের হাতিয়ার করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এসব দল সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরব-অধ্যুষিত জয়েন্ট লিস্টের হিব্রু ভাষার নির্বাচনী প্রচারের পরিচালক মরিসিও লাপচিক বলেন, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর, বিশেষ করে লিকুদের প্রচারের বাজেট ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনেক বেশি।
তার ভাষায়, প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় আগে থেকেই থাকা বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। তবে তাদের কাছে প্রযুক্তির চেয়ে প্রচারের বার্তার গুরুত্ব বেশি।
ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রযুক্তির ব্যবহার
নির্বাচনী প্রচারে প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু ভিডিও ও অনলাইন বিজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ নেই। ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যারা ভোট দেননি, তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতেও অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে লিকুদ।
ইসরায়েলের বামপন্থী জয়েন্ট লিস্ট—হাদাশ, বালাদ ও তা’আল দলের জোট এবং রা’আম বা ইউনাইটেড আরব লিস্টের বিরুদ্ধে দেশটির ডানপন্থী শিবির উল্লেখযোগ্য সম্পদ ব্যয় করছে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বড় একটি অংশ এই দুই জোটের কোনো একটিকে সমর্থন করেন। নির্বাচনের আগে এসব দলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও এসেছে।
হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের দিন ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ইলেক্টর’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল লিকুদ। তবে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি দলটিকে এই অ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এর পরিবর্তে ‘ভিক্টরি ২৬’ নামে নতুন একটি অ্যাপ ব্যবহার করবে দলটি।
ইলেক্টরের মতো নতুন অ্যাপটি ভোটারদের পরিচয় প্রকাশ করবে না। তবে কোন এলাকায় ভোটার উপস্থিতি কম, তা শনাক্ত করতে পারবেন লিকুদের কর্মী ও কর্মকর্তারা। এরপর যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের নাম হাতে লিখে তালিকাভুক্ত করে যারা এখনো ভোট দেননি, তাদের লক্ষ্য করে প্রচার চালানো সম্ভব হবে।
হারেৎজ জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন সমর্থক ও সম্ভাব্য সমর্থকদের অ্যাপটি ডাউনলোড করে ব্যবহারে উৎসাহিত করছে লিকুদ।
অ্যালগরিদম, গণনাযোগ্যতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণারত ডক্টরাল গবেষক সেবাস্তিয়ান বেন ড্যানিয়েল বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বর্তমানে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম, তার তুলনায় ইলেক্টর ও এ ধরনের কর্মসূচি বেশ প্রাথমিক পর্যায়ের।
তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি বিকাশের জন্য ইসরায়েল কার্যত একটি আদর্শ পরীক্ষাগার।
ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আগে থেকেই ব্যাপক নজরদারির মধ্যে থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
এআই ভিডিওতে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ
নির্বাচনী প্রচারে এআই দিয়ে তৈরি বিতর্কিত ভিডিওর ব্যবহারও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের প্রকাশ করা একটি এআই ভিডিও নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। ভিডিওটিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট, একজন বিচারপতি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে সহিংসভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিচার বিভাগীয় নজরদারি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা কট্টর ডানপন্থী সরকারের সমালোচকদের মধ্যে এই তিনজনও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বছরের শুরুতে নেতানিয়াহুর শেয়ার করা আরেকটি এআই ভিডিওতে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোটকে দৌড়ে একটি এআই-নির্মিত চরিত্রের দিকে যেতে দেখা যায়। অনেকের ধারণা, চরিত্রটি আইজেনকোটের ছেলে গালের আদলে তৈরি, যিনি গাজায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় নিহত হন। তবে ভিডিওতে আইজেনকোট ওই চরিত্রকে পাশ কাটিয়ে আরব দল রা’আমের প্রধান মনসুর আব্বাসকে আলিঙ্গন করেন।
নেতানিয়াহু শিবির পরে জানায়, ওই চরিত্রকে আইজেনকোটের ছেলের আদলে দেখানোর উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। চরিত্রটির টি-শার্টে হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের ঐক্য’ লেখা ছিল। পরে পুরুষ চরিত্রটির পরিবর্তে নারী চরিত্র ব্যবহার করা হয়।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতেও এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে গাজার বাসিন্দাদের গাধা হিসেবে দেখিয়ে তাদের ‘প্যারিসে নিয়ে যাওয়ার’ দৃশ্য তুলে ধরা হয়।
বেন-গভির গাজা থেকে ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসনের’ নামে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের অপমান করা এবং তাদের নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর মতো কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি সমালোচিত হয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও বেন-গভিরের প্রচারশিবির রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে ব্যাপকভাবে বট ব্যবহার করছে।
মেরুকরণ বাড়িয়ে ভোটার টানার কৌশল
যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও ভোটারদের আচরণ এবং নির্বাচনী কৌশলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রই জুর আল জাজিরাকে বলেন, অনলাইন প্রচার বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এআই, অ্যালগরিদম ও তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায়, ‘অ্যাফেক্টিভ পোলারাইজেশন’ বলতে রাজনৈতিক শিবিরগুলোর মধ্যে বিভাজন দৃঢ় হওয়া এবং প্রতিপক্ষের প্রতি বৈরিতা বেড়ে যাওয়াকে বোঝায়।
জুরের মতে, এই কৌশলের লক্ষ্য এমন ভোটারদেরও প্রভাবিত করা, যারা বিপরীত রাজনৈতিক শিবিরের কোনো দলকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। তাদের মনোভাব বদলে নিজ নিজ শিবিরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
এবারের নির্বাচনে ছোট দলগুলোর সাফল্য এবং সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
জুর বলেন, ভোটার উপস্থিতি এবং দলগুলোর সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তেল আবিব ও হাইফার মতো বড় ধর্মনিরপেক্ষ শহরে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ।
অন্যদিকে জেরুজালেম ও বনে ব্রাকের মতো অতি-ধর্মীয় ইহুদি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত শহর ও এলাকায় তা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ।
তার মতে, প্রতিপক্ষের জয় হলে কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরির পাশাপাশি তাদের ভোটকেন্দ্রে আনাও প্রচারের একটি বড় অংশ।
নির্বাচনের তিন দিন আগে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ
গতকাল শনিবার তেল আবিবে সরকারবিরোধী বড় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। এএফপি বলছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই নির্বাচনকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘অক্টোবর কাউন্সিল’। ওই হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংগঠনটি গঠিত।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রধান চারটি বিরোধী দলের নেতারা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, যিনি জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সমাবেশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, সত্য উদঘাটন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে তাদের তিন বছরের আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি হবে এই সমাবেশ।
শুক্রবার রাতে নির্বাচনী প্রচার ও জনমত জরিপ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপগুলোতে দেখা যায়, কোনো জোটই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর একটি জরিপে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আইজেনকোটের জোট ৫২টি এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। বাকি আসনগুলো পেতে পারে আরব দলসহ অন্য জোটনিরপেক্ষ দলগুলো।
এএফপির প্রতিবেদক জানান, হাজারো বিক্ষোভকারী কেন্দ্রীয় রবিন স্কয়ার থেকে অতীতে আয়োজিত সরকারবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হোস্টেজ স্কয়ারের দিকে মিছিল নিয়ে যান।
সমাবেশ শুরুর আগে ৬৮ বছর বয়সী হাদাস ফয়েরস্টেইন এএফপিকে বলেন, গত চার বছর ধরে যারা ইসরায়েলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে নেতানিয়াহুর সরকার ক্ষমতায় আসে।
তিনি বলেন, ইসরায়েল আগে কখনো এখনকার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।
সমাবেশের আগে সম্ভাব্য সরকারপন্থি উসকানিদাতাদের ‘প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডের’ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করেছিল অক্টোবর কাউন্সিল।
শনিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, তেল আবিবে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই ব্যক্তি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা নাফতালি বেনেট।
৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিতে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ইসরায়েলের নাগরিক সমাজ ও বিরোধী দলগুলো।
তবে নেতানিয়াহু সরকার স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বড় ধরনের ব্যর্থতা তদন্তে ইসরায়েলে এ ধরনের কমিশন গঠনের নজির রয়েছে।
এর পরিবর্তে সরকার একটি ‘রাজনৈতিক’ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে অর্ধেক সদস্য নিয়োগ দেবে ক্ষমতাসীন জোট এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগ দেবেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা। তবে বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া কোনো কমিশনে তারা অংশ নেবেন না।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে আজ রোববার সন্ধ্যায় তেল আবিবে ভোটারদের সঙ্গে পৃথক সমাবেশ করার কথা রয়েছে আইজেনকোট ও বেনেটের।
নেতানিয়াহুর বিকল্প ডিজিটাল অর্থনীতির প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা
নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলকে বিকল্প ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজন হতে পারে।
এর আগে সামরিক ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার কথা বলা নেতানিয়াহু আরও বলেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বহু বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তার প্যাকেজ অনির্দিষ্টকাল ধরে আসতে থাকবে না।
নেতানিয়াহুর এ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা।
প্রস্তাবিত বিকল্প ডিজিটাল মুদ্রাকে ব্যঙ্গ করে ‘বিবিকয়েন’ নামে অভিহিত করেন আইজেনকোট। নেতানিয়াহুর প্রচলিত ডাকনাম ‘বিবি’ থেকে শব্দটি এসেছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকোট লেখেন, নেতানিয়াহু বলছেন, আবার নির্বাচিত হলে ইসরায়েল বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন অনলাইনে কেনাকাটা, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা কোনোটিই থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসরায়েলকে ‘বিবিকয়েন’ দিয়ে ধ্বংস করতে দেওয়া উচিত নয় বলেও লেখেন আইজেনকোট।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনের আগে কার্যত এমন পরিস্থিতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যেখানে নাগরিকদের রাশিয়া বা ইরানের মতো রুটির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে।
লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী হলে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি হবে না এবং দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি এসব বক্তব্যের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক কৌশলের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেন।