দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলছে সরকারি ছুটি। অনেকেই দর্শনীয় স্থানে ঘুরে-ফিরে ছুটি উপভোগ করছেন। রাজধানীর রমরমা অবস্থা রমনা উদ্যানের। সেখানে বিনোদনপ্রেমী মানুষের ঢল নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এই উদ্যানে আসেন অনেকে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যা। কেউ হাঁটছেন, কেউ গাছের ছায়ায় বসে গল্প করছেন, আবার কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছেন আপনজনদের সঙ্গে।
দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পেয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। ছুটির এই সুযোগে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রমনা উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, লেকের পাড়, হাঁটার পথ ও গাছের ছায়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ এসেছেন এখানে একটু স্বস্তির আশায়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বসে গল্প করছেন। ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে কিছুটা সময় কাটাতেই তাদের এই আয়োজন।
পুরান ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাফিউল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, “ছুটির দিনে একটু স্বস্তিতে সময় কাটানোর জন্য রমনা উদ্যানে এসেছি। ঢাকার ব্যস্ততার মধ্যে এমন সবুজ পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে ভালো লাগছে।”
কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা দর্শনার্থী সবুজ বলেন, “কর্মব্যস্ততার কারণে সব সময় ঘুরতে আসা হয় না। টানা ছুটি পেয়ে এখানে এসেছি। খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটাতে ভালো লাগছে। তবে, উদ্যানের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দর্শনার্থীদেরও সচেতন থাকা দরকার।”
ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যানের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও ভেতরে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার সদস্যরা। মানুষের চাপ বাড়ায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সতর্ক রয়েছেন।
দায়িত্বরত আনসার সদস্য আবুল কাসেম বলেন, “ছুটির দিনে রমনা উদ্যানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। উদ্যানের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি করা হচ্ছে।”
উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীদের যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন আনসার সদস্যরা।
