মণিরামপুর প্রতিনিধি অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
স্বজনদের আহাজারি আর শোকাহত পরিবারের উৎকণ্ঠায় মোহনপুর ও তার আশপাশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বাড়িতে সবাই আছে, স্বজনদের যারা বাইরে থাকে তারাও একত্রিত হয়েছে, পাশের বাড়ির লোকজনও নাহিদ-প্রিন্সদের বাড়িতে এসেছে সমবেদনা জানাতে, তবে সকলের মাঝে শুধুই নেই নাহিদুর রহমান তুহিন-আফসানা তানজি দম্পতি ও তাদের ৭ বছরের মেয়ে রোবাইনা ও ৩ বছরী সুনাইনা।
নিস্তব্ধ আর গুমোট পরিবেশ গত ২ দিন ধরে চলছে যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়িতে। মাঝে মাঝে চাপা কণ্ঠে কেউ ফুঁপিয়ে উঠছে আবার হঠাৎ করে কোনো এক স্বজনের আগমনে কান্নার শব্দটা বিকটকারে রূপ নিচ্ছে।
উল্লিখিত দম্পতি ও দুই ফুটফুটে কন্যা স্ব-পরিবারে (৪জন) গত শনিবার ভোর ৬টা নাগাত কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে। নাহিদ মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর ওয়ার্ডের মতিয়ার রহমানের ছেলে।
পরিবারটি ঢাকার শ্যামলীতে বসবাস করত। নাহিদুর রহমান সেখানে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের ওই রিসোর্টে একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি ১১ অক্টোবর রিসোর্ট বুকিংটি করেছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু নাহিদুর, তাঁর স্ত্রী কিংবা সন্তানদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন।
একটি সূত্র বলছে, কক্সবাজার সিআইডির তত্ত্বাবধানে মৃতদেহ আছে। তারা জানিয়েছেন ২ সপ্তাহের মতো আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করবে। তবে সিআইডি হেড কোয়ার্টার ২টি শিশুর মৃতদেহের ব্যাপারে মানবিকতা বৃদ্ধি করে উল্লিখিত সময়ের আগেও মৃতদেহ হস্তান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে ৪টি তাজা প্রাণ অকালে হারিয়ে নাহিদের পিতা মতিয়ার রহমান শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে এক পরিবারের ৪ সদস্যের মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খুলনা গেজেট/এএজে
