শরতের সাদা মেঘ আর শিউলি ফুলের স্নিগ্ধতা যেন মিলেমিশে একাকার আজ। কারণ আজ ২৪ অক্টোবর, ঢাকাই সিনেমার লাস্যময়ী চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্মদিন। প্রতি বছর এই দিনটি ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে শোরগোল পড়ে যায়। পাঁচ তারকা হোটেলের রাজকীয় আলো, চোখধাঁধানো থিম আর ভিন্নধর্মী পোশাকের পরীমণিকে দেখতে মুখিয়ে থাকেন সবাই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরীমণির উদযাপনে এসেছে এক বড় পরিবর্তন। এবারের জন্মদিনটি তিনি সাজিয়েছেন একদমই নিজস্ব ও ঘরোয়া ঢঙে, যার নাম দিয়েছেন ‘শিউলি সন্ধ্যা’।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমণি একটি রহস্যময় পোস্ট দিয়ে লিখেছিলেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই...’। ভক্তদের মনে তখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, কী এই শিউলি ফুলের রহস্য? অবশেষে জানা গেল, এবারের জন্মদিনের থিমই হচ্ছে ‘শিউলি সন্ধ্যা’। শরতের এই শেষ লগ্নে শিউলি ফুলের শুভ্রতা আর স্নিগ্ধতাকেই নিজের জীবনের নতুন বছরের পথচলা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
এক সময় পরীমণির জন্মদিন মানেই ছিল রাজকীয় উৎসব। লাল, নীল কিংবা ময়ূরপঙ্খী থিমের জমকালো পোশাকে পরীর ডানায় ভর করে আসত কোটি টাকার আয়োজন। কিন্তু ২০২৩ সালে তার জীবনের সবচেয়ে বড় বটবৃক্ষ, প্রিয় নানুভাই শামসুল হক গাজীকে হারানোর পর, পরীর জীবনের চেনা কোলাহল অনেকটাই থিতিয়ে গেছে। কেক কাটার তীব্র আলো এখন আর তাকে টানে না।
তাই তো সব জৌলুশকে ছুটি দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন একান্ত এক কোণ। অভিনেত্রী নিজেই অনুভূতির ক্যানভাস মেলে ধরে বলেছেন, ‘জন্মদিনে বিশাল কোনো আয়োজন বা জৌলুশ এবার থাকছে না। তবে কিছু প্রিয় ও কাছের মানুষদের নিয়ে একটা সন্ধ্যা তো কাটাতেই পারি।’ আজ সন্ধ্যায় ঢাকার পাশে এক নিভৃত ভেন্যুতে বসছে এই শিউলি কুড়ানোর আসর, যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা আসবেন শুধু ভালোবাসা উজাড় করে দিতে।
জীবনযাপনের এই নতুন গল্পে পরীমণি এখন আর একা নন। পরীমণির জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার এখন তার দুই সন্তানÑ পুণ্য আর প্রিয়ম। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁয়েছে, তখন এই দুই সন্তানের কোমল হাতের ছোঁয়া আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন মা পরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন তিনি। ভক্তরা বলছেন, পরীমণি নিজেই যেন একটি স্নিগ্ধ শিউলি ফুল।
ঝড়-ঝাপটার মেঘ কেটে গিয়ে পরীমণির আকাশ এখন শান্ত, নীলিমায় ঘেরা। আলো ঝলমলে ক্লাবের চাকচিক্যকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে, শিউলি ফুলের কমলা বোঁটা আর শুভ্র পাপড়ির মতো সহজ-সরল এক জীবনবোধে নিজেকে জড়িয়েছেন তিনি। এই ‘শিউলি সন্ধ্যা’ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি আসলে জীবনের এক নতুন ও সুন্দর যাপনের গান। শুভ জন্মদিন, পরীমণি!
