দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ হাজার ৩০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২ জন মারা গেছে। এর বাইরে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে মারা গেছে একজন করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮১ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০৭৭ জন মারা গেছে। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৪ জন। হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৮৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৮৯ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৯৬, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮২, বরিশালে ৬৪, খুলনায় ৪৯ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছে।
সরকারি হিসাবে, চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী
বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৭৬ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৩ জন। চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ জন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় হামে আক্রান্ত হয়ে রাইসা তানিয়া রাধিকা নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাধিকা দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে উপজেলার জামিজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে রাধিকা একবার অসুস্থ হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপর হামে আক্রান্ত হয়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
