October 25, 2026, 8:25 am
চুক্তির ফলে বাংলাদেশের নীতিগত সার্বভৌমত্ব থাকবে না
Reporter Name
- Update Time : Sunday, October 25, 2026
- 11 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থের অনুকূলে নয় বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক ও শিক্ষাবিদ মোশাহিদা সুলতানা। তাঁর মতে, এ ধরনের কৌশলগত অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দিলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের নীতিগত স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে আধুনিকায়ন ও দুর্নীতির কথা বলা হলেও, অভ্যন্তরীণ কাস্টমস ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর না করে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করলে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এর মাধ্যমে সরকার মূলত নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর দায় এড়াতে চাইছে এবং জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বিদেশি স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্পর্শকাতর অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পরিণতি কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে। জিবুতি ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোতে এ ধরনের চুক্তির মারপ্যাঁচে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক লাইফলাইন কীভাবে হুমকির মুখে পড়েছিল, তা আজ স্পষ্ট। জিবুতি সরকার জাতীয় স্বার্থে চুক্তি বাতিল করতে চাইলে আন্তর্জাতিক আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ে এবং বিচারিক রায়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়। একইভাবে কঙ্গোর খনিজসম্পদ ও প্রধান রপ্তানি রুট বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের ফাঁদে পড়েছিল, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা জটিল ভূরাজনৈতিক সংকটের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরগুলো বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে বাংলাদেশ বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান কূটনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে সংকটকালে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া বিদেশি কোম্পানির মুনাফা নিশ্চিত করতে বন্দর হস্তান্তরের আগেই শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় আমদানি-রপ্তানিকারকদের ওপর। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তাকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
বন্দর ব্যবস্থাপনার মূল সমস্যা হিসেবে কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা এবং সিস্টেমের ত্রুটিকে চিহ্নিত করে গবেষক উল্লেখ করেন যে কেবল অপারেটর বদলালে আসল সংকটের সমাধান হয় না। কাস্টমসের দুর্নীতি এবং বন্দরের বাইরে অবকাঠামোগত সক্ষমতা না বাড়িয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান আনলে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘ডিক্লাইনিং মারজিনাল প্রোডাক্টিভিটি’ বলা হয়, ঠিক তেমনি অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ও জ্বালানি সংকট জিইয়ে রেখে কেবল প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ বাড়িয়ে সুফল পাওয়া যায় না। তাই কেবল বাহ্যিক আধুনিকায়নের আশায় দেশের কৌশলগত সম্পদের নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই গবেষক।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


