Published on
:
2 min read
দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া
শরতের বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ। কৈলাস থেকে বাপের বাড়িতে এসেছেন উমা। শুরু হয়ে গিয়েছে মায়ের পুজো। চারদিকে ঢাকের বাদ্যি, কোলাহল। আনন্দে মেতেছেন সবাই। কিন্তু বাঁকুড়ার ইন্দপুরের মুদুনিয়া গ্রামের দম্পতি মুক্তারাম পাল ও লক্ষ্মীরানি পালের মনে সেই আনন্দের ছিটেফোঁটাও নেই। তাঁদের একমাত্র ছেলে অশোক গত অগস্টে নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ হন। আজও তাঁর হদিশ মেলেনি। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বয়স্ক মা–বাবা।
'পুজোয় আসব, বলেছিল ছেলেটা'— বলতে গিয়ে মা লক্ষ্মীরানি চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। শনিবার সপ্তমীতে বাড়ির পাশেই মন্দিরে ছেলের নামে পুজো দিয়েছেন তিনি। মা উমার কাছে আর এক মা প্রার্থনা জানিয়েছেন, 'আমার অশোককে ফিরিয়ে দাও।' ছেলেকে ফিরে পেতে দিনরাত ঠাকুরকে ডেকে চলেছেন লক্ষ্মীরানি আর মুক্তারাম। ছেলের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বসে রয়েছেন তাঁরা। জানেন না, এ অপেক্ষার শেষ কবে। মাঝেমধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তাঁরা। সান্ত্বনা দিচ্ছেন গ্রামে থাকা আত্মীয়, পড়শিরা।
মুদুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছরের অশোক পাল গত ১০ বছর ধরে নেপালের রাসুয়ায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। ২৬ অগস্টের হড়পা বানে নিখোঁজ হন তিনি। নেপালে সেই বিপর্যয়ের পরে কেটে গিয়েছে ৫৩ দিন। পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন এবং পুলিশ। আধিকারিকরা খোঁজ রাখছেন নিয়মিত। শুক্রবার ষষ্ঠীর দিনে মুদুনিয়ার বাড়িতে গিয়ে অশোকের মা–বাবার সঙ্গে দেখা করেন ইন্দপুরের বিডিও প্রসেনজিৎ চৌধুরী ও থানার ওসি শ্রীমন্ত চক্রবর্তী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত মাসের মতো এ মাসেও বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় চাল, ডাল সমেত মুদিখানার বিভিন্ন সামগ্রী। ইতিমধ্যে অশোকের বাবা অথবা মায়ের মধ্যে একজনের কাজের ব্যবস্থা করতেও উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শেষ বার গত বৈশাখে গ্রামের হরিনাম সংকীর্তনের সময়ে বাড়িতে এসেছিলেন অশোক। নেপালে কাজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার সময়ে বলে গিয়েছিলেন, 'পুজোয় আসব।' সেই পুজো এসেছে, কিন্তু অশোক আসেননি। লক্ষ্মীরানি বললেন, 'প্রতি বছর পুজোতে বাড়িতে আসত অশোক। পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মেতে থাকত ক'টা দিন। এ বারও আসব বলেছিল। বাইরে কাজ করে সব ছেলেই বাড়ি চলে এসেছে। কিন্তু আমার অশোক আসেনি। ওকে ছাড়া কি ভালো লাগে?'
