পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগের অগ্রগতি কত দূর, তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। জবাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেছেন, কার্যক্রম চলছে। তবে কবে নাগাদ তাঁকে দেশে ফেরানো সম্ভব হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, ‘কার্যক্রম চলমান আছে। যেহেতু এখানে শুধু আমরা নই, এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, যদি কোনো ধরনের কোনো হালনাগাদ তথ্য থাকে, আমরা জানাব।’
গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। ১৪ জুন জাতীয় সংসদে তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর ১৬ জুন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুলিশের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। এসব নথির মধ্যে ছিল মামলার কাগজপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ ও তদন্তের তথ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে নথিগুলো পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল।
পরে ২১ জুলাই দুদক জানায়, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে মামলার নথিসহ কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে কী কী বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
এর মধ্যে জুলাইয়ের শেষ দিকে বেনজীর দুবাইয়ে জামিন পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। ২ আগস্ট দুদক জানায়, তিনি কিসের ভিত্তিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নিতে দুবাইয়ে একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শেখ হাসিনার মামলা নিয়েও প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলার অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য দুদক কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা কী, তা জানতে চান তাঁরা।
জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, ‘কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনো ফাইলই আটকে অন্য জায়গায় নেই, সব কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) মাধ্যমে বড় মামলাগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আলোচিত মামলাগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় সাংবাদিকদের একজন প্রশ্ন করেন, সব প্রশ্নের উত্তর ‘চলমান’ হলে অগ্রগতির খবর কীভাবে পাওয়া যাবে। জবাবে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনো কাজ থেমে নেই। আমরা বলিনি, এটা থেমে আছে। সব কাজই চলছে, যখন তথ্য আসবে আমরা জানাব, ইনশা আল্লাহ।’
সাংবাদিকদের চাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন দুদক মহাপরিচালক।
