ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বিচার বিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দলটি একত্রিত হয়ে নতুন কৌশল নির্ধারণ করবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে বলে বার্তা সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
দীপকে বলেন, গত কয়েকদিনে অবৈধ গ্রেপ্তার ও আটকসহ যা কিছু ঘটেছে, তা থেকে এটা স্পষ্ট যে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাব না এবং পিছিয়েও যাব না। এটি একটি দীর্ঘ লড়াই এবং আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তবে এদিকে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ভারতের নয়াদিল্লিতে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত শেষে গতকাল রবিবার তাদের মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সময়মতো হাজির না হওয়ায় শুনানি ব্যাপকভাবে বিলম্বিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিজেপি। অন্যদিকে, জামিন শুনানির প্রেক্ষাপটে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে
দিল্লি পুলিশ।
সিজেপির লিগ্যাল হেড অ্যাডভোকেট রত্না সিং সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অভিযোগ করেন, দুপুর ১২টায় শুনানি নির্ধারিত থাকলেও বিকাল ৪টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার মন্দির মার্গ পুলিশ স্টেশনে এসে পৌঁছাননি। বেলা ১১টা থেকে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
রত্না সিং আরও অভিযোগ তোলেন, অস্পষ্ট ও তুচ্ছ অজুহাতে প্রশাসন তাদের চারজন জামিনদারকে বাতিল করে দিয়েছে। যারা পূর্বে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে এফআইআরের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাদের অপরাধমূলক পটভূমি থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে জামিনদার হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করা হচ্ছে। রত্না সিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনো অপরাধ নয়। পদ্ধতিগত বিলম্বের অজুহাতে তাদের এভাবে আটকে রাখা অনুচিত।
আইনিব্যবস্থার এই দীর্ঘসূত্রতাকে সরকারের নোংরা কৌশল বলে তোপ দাগেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, আদালতের কাছে সৌরভ ও আশুতোষকে আটকে রাখার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি না থাকায় তারা এই ধরনের বিলম্বের পথ বেছে নিয়েছেন।
গত ১৪ অক্টোবর যন্তর মন্তরের নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
শনিবারই সিজেপির পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কপিল শিবালের সঙ্গে পরামর্শের কথা জানানো হয়। দলটি হুশিয়ারি দেয়, রবিবার যদি দুই নেতাকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তবে বেআইনিভাবে আটকে রাখার পেছনে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিজেপির এই আন্দোলন মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। এই ইস্যুতে দিল্লির রাজনীতি এখন উত্তপ্ত।
রবিবার গোয়ার মারগাওতে কংগ্রেসের এক সমাবেশে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীক্ষè ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্দার আড়াল থেকে ভোট চুরির নীলনকশা তৈরি করছেন, যা বাস্তবায়ন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কার্যকর করছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বলেন, সরকারের পছন্দের শিল্পপতিদের কাজ দিয়ে সুবিধা আদায়ের একটি কুইড-প্রো-কো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই। মোদি সরকার ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মকে ভয় পেয়ে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে বলে দাবি করে সংগঠনটি। সিইসির পদত্যাগের দাবিতে এনএসইউআই কর্মী ও সাধারণ তরুণদের লে মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে জড়ো হয়ে যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিজেপি নেতাদের মুক্তি বিলম্বিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে, যার রেশ গড়াচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতেও।
