কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে কেন পাশা খেলতে হয়?গ্রাফিক্স : রাতুল মণ্ডল
Published on
:
2 min read
আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাংলার ঘরে ঘরে এই রাতে ধন-সম্পদ, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। তবে এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও এক প্রাচীন রীতি— রাত জেগে পাশা খেলা। লক্ষ্মীপুজোর রাতে আজও অনেক বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে পাশা খেলেন। কিন্তু দেবীর আরাধনার সঙ্গে পাশা খেলার সম্পর্ক কোথায়? কেনই বা কোজাগরী পূর্ণিমায় অক্ষক্রীড়ার বিধান রয়েছে?
‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ কী?
প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে, ‘কোজাগরী’ শব্দটির উৎপত্তি ‘কো জাগর্তি’ থেকে। সংস্কৃত এই কথার অর্থ, ‘কে জেগে আছে?’ লোকবিশ্বাস, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে আসেন, কে রাত জেগে তাঁর আরাধনা করছেন, তা দেখেন। যাঁরা এই রাতে জেগে দেবীর নাম স্মরণ করেন ও পুজো করেন, তাঁদের দেবী ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি প্রদান করেন বলেও বিশ্বাস করা হয়। তাই কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত্রিজাগরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
লক্ষ্মীপুজোর রাতে পাশা খেলার রীতি কেন?
কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত্রিজাগরণের সঙ্গে অক্ষক্রীড়ারও উল্লেখ পাওয়া যায়। অক্ষক্রীড়া বলতে সাধারণত পাশা খেলাকেই বোঝানো হয়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে, এই রাতে নারকেলের জল পান করে পাশা খেলার মাধ্যমে জেগে থাকার বিধান রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, রাত জেগে এই আচার পালন করলে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করা যায়।
তবে পাশা খেলার তাৎপর্য কেবল বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও ব্যাখ্যা করা হয়। ‘অক্ষ’ শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে। কোথাও অক্ষ বলতে পাশা বোঝানো হয়েছে, আবার অন্য ব্যাখ্যায় এই শব্দের সঙ্গে রুদ্রাক্ষ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পদ্মবীজের সম্পর্কও তুলে ধরা হয়। সেই অর্থে কোজাগরী পূর্ণিমায় রুদ্রাক্ষের মালায় জপ করা কিংবা পদ্মবীজের মালায় ধ্যান করার মাধ্যমেও দেবীর আরাধনার কথা বলা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই সময়কে শুভ বলে মনে করেন অনেকে।
রাত্রিজাগরণ ও লক্ষ্মী আরাধনার তাৎপর্য
কোজাগরী পূর্ণিমার মূল ভাবনা হল রাত জেগে দেবীর স্মরণ, জপ, ধ্যান ও আরাধনা করা। পাশা খেলার রীতি সেই রাত্রিজাগরণেরই একটি প্রচলিত অংশ। লোকাচার ও পারিবারিক রীতির ভিন্নতায় এই প্রথার পালনের ধরনও আলাদা হতে পারে।
