শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। হাতে তখনো উইকেট, ক্রিজে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাদিয়া আক্তার। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আশাও জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ঘোচানো গেল না। ২০ ওভারের লড়াই শেষে বাংলাদেশের মেয়েদের আক্ষেপ ৪ রানের। ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে শ্রীলঙ্কা।
শিরোপার লড়াইয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে আজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাঞ্জানা কাভিন্দি। ৪৪ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। এ পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। উমায়াঙ্গানা পেইরিসের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। এ ছাড়া বালাসুলিয়া ২৩ ও উপেক্ষা করেন ২২ রান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে একটি করে উইকেট নেন ফারজানা ইয়াসমিন, নিশিতা আক্তার নিশি, জান্নাতুল ফেরদৌস ও আফরিন মিম।
১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের ২৮ বল শেষ হওয়ার আগেই ২১ রানে নেই ৩ উইকেট। দুই ওপেনার মায়মুনা নাহার ও অচেনা জান্নাত ফিরেছেন শূন্য হাতে। শিরিনা খাতুনের ব্যাট থেকেও আসে মাত্র ৬ রান। এমন ধাক্কায় ফাইনালের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যায় শ্রীলঙ্কার হাতে।
তবে হাল ছাড়েননি অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম ও নিশিতা আক্তার নিশি। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ৬৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে আবারও ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। চাপ সামলে ধীরে ধীরে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন তারা। ৩৩ বলে ২ চারে ৩২ রান করে নিশি রানআউট হলে ভাঙে সেই প্রতিরোধ।
এরপরও লড়াই থামেনি বাংলাদেশের। অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম ব্যাট হাতে দলকে টেনে নিয়ে যান শেষ পর্যন্ত। ৩৬ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৯ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে সাদিয়া আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিং ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়ায়। মাত্র ২২ বলে ৩৫ রান করে শেষ ওভারের লড়াইকে জমিয়ে তোলেন তিনি। বিশেষ করে চামুদি হেরাথের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সাদিয়া।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ বলে জান্নাতুল ফেরদৌসের চার ব্যবধান কমালেও শিরোপা এনে দিতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ৪ রানের জয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে শ্রীলঙ্কা।
ফাইনালের পরিসংখ্যানের বাইরেও পুরো টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩ অক্টোবর স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হেরে আসর শুরু করেছিল দলটি। সেই হারই যেন বদলে দেয় তাদের পথচলা। এরপর টানা ছয় ম্যাচ জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে লঙ্কান মেয়েরা।
টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত সাফল্যেও আলো ছড়িয়েছেন সাঞ্জানা কাভিন্দি। ফাইনালে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পাশাপাশি সিরিজসেরার স্বীকৃতিও উঠেছে তার হাতে। ছয় ম্যাচে ৬৩.২০ গড়ে ৩১৬ রান করেছেন তিনি। তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৩৭.৯৯। আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও এই লঙ্কান ব্যাটার।
অন্যদিকে ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াই মনে রাখার মতো। বিশেষ করে শুরুতে ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর যেভাবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছেন সাদিয়া-নিশিরা, তা ছিল প্রশংসনীয়। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ রানের আক্ষেপই হয়ে থাকল বাংলাদেশের শিরোপা-স্বপ্নের শেষ অধ্যায়!
