ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার অনুমতি বাতিল করেছে পুলিশ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জায়গাটি ছিল বিভিন্ন দাবি আদায় ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পরিচিত কেন্দ্র। সিদ্ধান্তটি নিয়ে অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
১৮ শতকের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণকেন্দ্র জন্তর মন্তরের পাশের সড়কটি ১৯৯৩ সালে বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর শ্রমিক সংগঠন, সাবেক সেনাসদস্য, নারী অধিকারকর্মী ও শিক্ষার্থীরা সেখানে বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশ করেছেন।
সম্প্রতি নির্বাচনি তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে তরুণদের একটি আন্দোলন সেখানে বিক্ষোভের চেষ্টা করে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই সংশোধনের ফলে যোগ্য ভোটারদের কেউ কেউ ভোটাধিকার হারাতে পারেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিল্লির বাইরে দুটি স্থান এবং শহরের তুলনামূলক কেন্দ্রীয় এলাকায় রামলীলা ময়দানে সমাবেশের সুযোগ রয়েছে।
তবে অধিকারকর্মীদের মতে, জন্তর মন্তরের অবস্থান সংসদ, সরকারি দপ্তর ও সংবাদমাধ্যমের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে বিক্ষোভ সহজে মানুষের নজরে আসত। অন্যত্র সরিয়ে নিলে অংশগ্রহণ কমতে পারে এবং আন্দোলনের প্রচারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, ওই এলাকার কিছু বাসিন্দা পুলিশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভের কারণে সড়কে বাধা, শব্দদূষণ ও ময়লা-আবর্জনা তৈরি হয়, যা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে।
আন্দোলনকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা জন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে চান। তাদের মতে, জায়গাটি প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: ডন/এএফপি
