সুন্দরবনে ২৩০ টন কয়লাবোঝাই কার্গোসহ আটক ৯
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ভোলা নদী থেকে ২৩০ টন কয়লাবোঝাই ‘হাসান ভান্ডারী’ নামের একটি কার্গোজাহাজসহ ৯ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কয়লা পাচারের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে কয়লা নিয়ে কার্গোটি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় যাচ্ছিল। বন বিভাগের নিয়মিত টহলকালে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কার্গোটিকে আটক করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি, তারা কার্গোটি ভাড়া করে পাথরঘাটার আমুয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। তবে কয়লা ক্রয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের কয়লাসহ আটক করা হয়।
আরও পড়ুন
আটক ব্যক্তিরা হলেন- মো. তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), মো. সুমন তালুকদার (২১), মো. নূর নবী হোসেন (৪২), মো. এনায়েত করিম (৪০), মো. ওবায়দুল (২২), মো. মামুন (২২), মো. লায়েক মিয়া (৫০) ও মো. কবির হোসেন (৪৫)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা ও মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান আইনে শরণখোলা থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। বন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
আরও পড়ুন
তিনি আরও জানান, জব্দ করা ২৩০ টন কয়লার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, মোংলার জয়মনি এলাকায় নোঙর করা মাদার ভ্যাসেল থেকে অবৈধভাবে এই কয়লা খালাস করা হয়েছিল। জব্দ করা কয়লা ও আটক ব্যক্তিদের শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নাহিদ/এএফ
আরও পড়ুন
নেত্রকোনায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালক গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নেত্রকোনার পূর্বধলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি মাদরাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার জালশুকা এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল (৫০)। তিনি জালশুকা এলাকায় নিজ পরিচালিত একটি মাদরাসার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি (১২) ওই ফার্মেসিতে কাজ করত।
আরও পড়ুন
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে ফার্মেসির কাজ শেষ করে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত দুলাল শিশুটিকে ডেকে নিজের শোবার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পুরো বিষয়টি প্রকাশ করে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা দুলালকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
এদিকে ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মামলা করেছেন। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সঞ্জয়/এএফ
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৪৮
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে ৫৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ৩ লাখ ২ হাজার ১৮৭ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭৩ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৯০ জন, পুলিশ অ্যাক্ট ৩৪ ধারায় ১৩ জন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় দুই জন, কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪০ জন, পরোয়ানা মূলে ৯৯ জন এবং সাজা পরোয়ানা মূলে ১৬ জন রয়েছেন।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া মাদক মামলায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জন মাদক বহনকারী ও ৬৯ জন মাদকসেবী। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অভিযানে মোট ১১১ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদক বিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৭ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এ সময় ৩১টি মাদক মামলা করা হয়।
আরও পড়ুন
অভিযানে ৩ লাখ ২ হাজার ১৮৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৪৮ লিটার ৫০০ মিলিলিটার চোলাইমদ, ১৪ কেজি ৫৫০ গ্রাম গাঁজা, চার টি গাঁজা গাছ, চার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ছয় বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ২১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিন জন, কক্সবাজারে এক জন, কুমিল্লায় ৯, চাঁদপুরে তিন জন , নোয়াখালীতে চার জন, রাঙ্গামাটিতে এক জন রয়েছেন।
অন্যদিকে, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তন্মধ্যে ১০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক আটককৃত কিশোর গ্যাং সদস্যের সংখ্যা: চট্টগ্রাম ৩৪ , কক্সবাজার ১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৯, চাঁদপুর ২৫, নোয়াখালী ১৬, লক্ষ্মীপুর ৯, রাঙ্গামাটি পাঁচ জন এবং খাগড়াছড়ি ১৪ জন।
জনস্বার্থে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিফাত/
আরও পড়ুন
বাগেরহাটে পাসপোর্ট অফিসে আগুন, বন্ধ স্বাভাবিক কার্যক্রম
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে সার্ভার কক্ষের এভিআর মেশিন (অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর)। বন্ধ রয়েছে সেবা প্রদানসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনব্যাপি সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন অনেকেই।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে সার্ভার কক্ষে থাকা ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে আগুনের বিষয়টি টের পান কর্মকর্তারা।
তাৎক্ষণিকভাবে সার্ভার কক্ষ খুলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আগুনে সার্ভার, কম্পিউটার বা অন্যকোনো যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে এভিআর মেশিন নষ্ট হওয়ায় সোমবার সারাদিনই সেবা প্রদান কার্যক্রম অর্থাৎ পাসপোর্টের ছবি তোলা, আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। ওভারলোডের কারণে এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এভিআইর মেশিনটি সংস্কার করতে দেওয়া হয়েছে। এটি ঠিক হলে আগামী রবিবার থেকে পুনরায় সেবা প্রদান করা যাবে।
আরও পড়ুন
মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার পূজার ছুটি এবং শুক্র-শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা তেমন ভোগান্তিতে পড়বেন না বলে জানান বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, মূলত লোডশেডিং শেষে যখন বিদ্যুৎ আসে তখন লোডের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। যার কারণে এ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এভিআর মেশিন পুড়ে গেলেও, সার্ভার কক্ষের অন্যকোনো যন্ত্রপাতি বা ডকুমেন্টসের ক্ষতি হয়নি। এভিআইর মেশিনটি সংস্কার করতে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ২৫ অক্টোবর থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
আরও পড়ুন
নাহিদ/নাঈম
আরও পড়ুন
সুস্থভাবে বাঁচতে চোখের যত্ন জরুরি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি: খবরের কাগজ
-->সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চোখের যত্নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, শুধু দীর্ঘদিন বেঁচে থাকাই নয়, কত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চোখের স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
ভিশন স্প্রিং ও গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাজিদা ফাউন্ডেশন এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্পে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ৩৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা দেওয়া, ছানি রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোতে স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদেরও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। চোখের সমস্যা পড়াশোনা, স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চোখের রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক।
বক্তারা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিনামূল্যের এ ধরনের ক্যাম্প সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
মো. নেয়ামুল আহসান/রিফাত/
