গাজীপুরের টঙ্গীতে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে তিন নারী ও এক পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া রয়েল (২৫) ও অভিযুক্ত আরিফ হোসেন মাতবর (৩২) ধস্তাধস্তির সময় আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের তিলারগাতী এলাকায় কনসেপ্ট গার্মেন্টসের পাশে হামিদা বেগমের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক হামিদা বেগমের মেয়ে আফছানা আক্তার আঁখি (২৮), নূসরাত জাহান লিমা (২২), নদী আক্তার (২৫) ও আরিফ হোসেন মাতবর (৩২) পরস্পরের যোগসাজশে রয়েলকে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রয়েলের নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। জাকির হোসেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
এ সময় অভিযুক্তদের আটক করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রয়েল ও আরিফ আহত হন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এখলাছ উদ্দিন ফরাজী ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ তিন নারী ও এক পুরুষকে আটক করে এবং রয়েলকে উদ্ধার করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন আফছানা আক্তার আঁখি, নূসরাত জাহান লিমা, নদী আক্তার ও আরিফ হোসেন মাতবর। আহত আরিফ ও রয়েলকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক দুই নারী আফছানা আক্তার আঁখি ও নদী আক্তার বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘এটি আসলে খুবই অন্যায়। এরা সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
