আজকের পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট :
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৬
হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সরকারি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। দুর্নীতি, শিক্ষার নিম্নমান ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত একটি বিতর্কিত প্রকল্প বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তবে চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানী তিরানার রাজপথে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভের কারণে আজও দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশন বাতিল করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় প্রকৃতি ধ্বংস করে জ্যারেড কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তখন থেকেই তাঁরা এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি।
এর আগে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁদের জমি জবরদস্তি বিক্রি করা হয়েছে। তবে কুশনারের পক্ষ থেকে এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো জনগণের কথা শোনা, তাদের যেকোনো সমস্যার সমাধান করা এবং আলবেনিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর অন্যথা করা মানে আলবেনীয়দের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, যারা আমাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের আলোচনা সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে।’
সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে রামা বলেন, ‘শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি বা অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য আমার দরজা খোলা। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, জনসম্পদ ধ্বংস করা ও জননিরাপত্তা বিপন্ন করার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলবেনিয়ার ইইউ সদস্যপদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশ ও বিদেশের কিছু অপশক্তি এই সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে।
সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে এই বিক্ষোভ। তিরানার রাজপথে পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া ময়লার পাত্র, ভাঙা বাসস্টপ ও ট্রাফিক সিগন্যাল। আজকেও স্ক্যান্ডারবেগ স্কয়ারে পর্যটকদের উপস্থিতিতেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে এবং লাঠিপেটা করেছে।
আলবেনিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মিশন এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গঠনমূলক সংলাপই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।
উল্লেখ্য, গত বছর চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার জন্য এই ছাত্র আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা আলবেনিয়ায় এই রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

