কালবেলা · আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসীরা বিনা বাধায় কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে: কিউবা
২০/১০/২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীরা বিনা বাধায় কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কিউবা। গত ফেব্রুয়ারিতে স্পিডবোটে করে দেশটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তদন্তের তথ্য প্রকাশ করে সোমবার এ অভিযোগ তোলে কিউবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ঘটনায় সমুদ্রে বন্দুকযুদ্ধ, প্রাণহানি ও উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
কিউবার তদন্ত অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডা কিজ এলাকা থেকে নৌকায় করে কিউবায় ঢোকার চেষ্টা করেন দেশত্যাগী ১০ কিউবান। তাদের কাছে প্রায় ১৩ হাজার রাউন্ড গুলি, ১১টি রাইফেল, ১৫টি হ্যান্ডগান, পেট্রলবোমা, একটি ভিএইচএফ রেডিও এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল।
কিউবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। বাকিদের আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আহত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কিউবার কর্তৃপক্ষ বলছে, আটক ব্যক্তিদের জবানবন্দিসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে তারা জানতে পেরেছে, বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণে জড়িত কয়েকজন এখনো যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কিউবার কৌঁসুলি এডওয়ার্ড রবার্টস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন ওই অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সরবরাহ, স্থল ও সমুদ্রপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং অস্ত্র কেনা ও মজুত করতে সহায়তা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কিউবার কর্তৃপক্ষ ফ্লোরিডায় বসবাসরত কিউবান নাগরিক মারিতজা লুগো ফার্নান্দেজকে কথিত পরিকল্পনা সংগঠিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। আটক কয়েকজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তারা ফ্লোরিডায় লুগো ফার্নান্দেজের মালিকানাধীন একটি খামারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি ফ্লোরিডাভিত্তিক ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ৩০ নভেম্বর’ সংগঠনের নেত্রী।
তবে লুগো ফার্নান্দেজ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবার সরকার তাকে সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্ত করে আসছে। তার দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং মার্কিন বিচার বিভাগ এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এর আগে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছিল, তারা তদন্তে একসঙ্গে কাজ করছে।
কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর মধ্যে এ অভিযোগ সামনে এলো। গত নয় মাস ধরে দেশটিতে কার্যত জ্বালানি অবরোধ এবং আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে কিউবা নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আখ্যা দিয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন চাওয়ার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗