দেশভাগের প্রেক্ষাপটে কীভাবে তৈরি হয়েছিল আজকের পশ্চিমবঙ্গ? সেই ইতিহাসই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে কলকাতায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের বিশেষ আর্কাইভ ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী। ‘ধানসিড়ি থেকে অঞ্জনার উপাখ্যান’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ পশ্চিমবঙ্গের আত্মপ্রকাশের ইতিহাস। ইতিহাসের দলিল, পুরনো সংবাদপত্র, চিঠিপত্র ও আইনসভার নথির পাশাপাশি রয়েছে সমকালীন বাংলার নানা প্রান্তের ছবি।
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, ফটোগ্রাফার ও গবেষক শ্রী রূপেশ সরকারের উদ্যোগে ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নন্দন চত্বরের গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায় এই প্রদর্শনী চলছে। প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকছে প্রদর্শনী। পরিদর্শন করার পর, এই প্রদর্শনী, তথ্য সংগ্রহ, প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণার ভুয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডঃ সুব্রত গুপ্ত এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি ডঃ দেবদত্তা চক্রবর্তী। শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন হরিয়ানার রাজ্যপাল অধ্যাপক অসীম কুমার ঘোষ।
রূপেশ বাবু বলেন, প্রদর্শনীর প্রথম পর্বের নাম দেওয়া হয়েছে “ধানসিঁড়ি থেকে অঞ্জনার উপাখ্যান।” ধানসিঁড়ি এবং অঞ্জনা, দুই বাংলার দুটি নদীর নাম। এই দুই নদীর প্রবাহের মতো সাজানো এই এক্সিবিশন। পশ্চিমবঙ্গের জন্মের ঐতিহাসিক যুক্তিগুলোর অনুসন্ধান এবং গবেষণা।
প্রথম পর্বে ফিরে দেখা হয়েছে বাংলার আধুনিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অস্থির সময়কে। পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টির দিকে নিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, হিন্দুদের জন্য নতুন ভূমির দাবি, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, হিন্দু মহাসভার ভূমিকা, তারকেশ্বর সম্মেলন, তৎকালীন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন-বিশেষত অমৃতবাজার পত্রিকা-র ভূমিকা এবং বঙ্গীয় আইনসভার কার্যবিবরণীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ২০ জুন ১৯৪৭-এর ঐতিহাসিক আইনসভা ভোট, যার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আত্মপ্রকাশের পথ স্পষ্ট হয়।
দ্বিতীয় পর্ব – রূপসী বাংলা। নতুন প্রজন্মের চোখে দ্বিতীয় পর্বে ইতিহাসের নথি থেকে বেরিয়ে আমরা চলে আসি আজকের বাংলায়। এখানে রয়েছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তোলা ৩০টি আলোকচিত্র-গল্প-পাহাড়, শহর, নদী, জঙ্গল, উৎসব, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনকে ঘিরে।
অনেকদিন পর এই ধরনের গবেষণামূলক এক্সিবিশন শহরে দেখা যাচ্ছে, যা সব বয়সের মানুষের কাছে বিপুল প্রশংসিত হচ্ছে। আজকের নতুন প্রজন্মের ফটোগ্রাফারদের কাছে নতুনভাবে সময়কে বেঁধে ফেলেছে এই গবেষণা-ভিত্তিক প্রদর্শনী: “ধানসিঁড়ি থেকে অঞ্জনার উপাখ্যান”।
