আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাটা ট্রাস্টের পরিচালন ব্যবস্থা ঘিরে বিবাদ ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এবার আইনি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করলেন টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং তাঁর ছেলে নেভিল টাটা। বম্বে হাই কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছেন তাঁরা। এর এক সপ্তাহ আগে মুম্বইয়ের সিটি সিভিল কোর্টেও একই ধরনের পদক্ষেপ করেছিলেন দু’জনে। বুধবার এনডিটিভি প্রফিটের এক প্রতিবেদনে সূত্রের উল্লেখ করে এই খবর জানানো হয়েছে।
টাটা ট্রাস্টের দুই ট্রাস্টি ভেনু শ্রীনিবাসন এবং বিজয় সিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আইনি তৎপরতা। তাঁরা মহারাষ্ট্রের চ্যারিটি কমিশনারের কাছে সির দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। পাশাপাশি, টাটা সন্সের সঙ্গে যুক্ত কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি দাতব্য ট্রাস্ট তার নির্ধারিত ভূমিকার সীমা অতিক্রম করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কী এই ক্যাভিয়েট?
ক্যাভিয়েট হল আদালতে দাখিল করা একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিস। এর মাধ্যমে আবেদনকারী চান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে আদালত যেন তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ দেয়। অর্থাৎ, নোয়েল ও নেভিল টাটার এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কোনও বিষয়ে আদালত একতরফা নির্দেশ দেওয়ার আগে তাঁদের বক্তব্য পেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। তবে ক্যাভিয়েট দাখিল হওয়া মানেই কোনও মামলায় রায় ঘোষণা হয়েছে, এমন নয়। একইভাবে, এতে অভিযোগের সত্যতাও প্রমাণিত হয় না।
সূত্রের খবর, গত ৭ অক্টোবর মুম্বইয়ের সিটি সিভিল কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছিলেন নোয়েল ও নেভিল। এবার বম্বে হাই কোর্টেও সেই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আবেদনে সহ-ট্রাস্টি ভেনু শ্রীনিবাসন, বিজয় সিং, দারিয়ুস খাম্বাটা এবং ভাস্কর ভাটের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। টাটা ট্রাস্টের সূত্রের দাবি, খাম্বাটা ও ভাটের নাম অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়াগত বিষয়।
কেন বিবাদে জড়ালেন ট্রাস্টিরা?
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসডিটিটির প্রশাসন ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন ভেনু শ্রীনিবাসন। তাঁর অভিযোগ, ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত সার্কুলার রেজোলিউশন নম্বর ১০৭-এর মাধ্যমে তাঁর স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়া ও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে এবং টাটা সন্সের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও প্রভাব পড়তে পারে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকেও এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন শ্রীনিবাসন। তবে এগুলি তাঁর অভিযোগ, এখনও প্রমাণিত সত্য নয়।
এদিকে, শ্রীনিবাসন ও বিজয় সিংয়ের অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য টাটা ট্রাস্টকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের চ্যারিটি কমিশনার। আগে এই জবাব জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১২ অক্টোবর।
সূত্রের খবর, অভিযোগের পর টাটা ট্রাস্ট গোষ্ঠীর একাধিক ট্রাস্ট মহারাষ্ট্রের চ্যারিটি কমিশনারের কাছে মোট ৮৪টি ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে যাতে তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। ফলে টাটা ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন আইনি ও নিয়ন্ত্রক স্তরে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
