ফের ক্রিকেট মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যাট-বলের লড়াই শুরু হতে এখনো সময় বাকি। তবে মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক লড়াইয়ে এরই মধ্যে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পরিবহন স্পন্সর পেল বোর্ড। আসন্ন বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে এই দায়িত্ব পালন করবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গাড়িবুক। দুই দলের যাতায়াতের বাসে নিজেদের ব্র্যান্ড তুলে ধরার বিনিময়ে বিসিবিকে ২৫ লাখ টাকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পন্সরশিপের পরিসর এবার একটু বড় হলো। এত দিন ক্রিকেটের স্পন্সরশিপ বলতে সাধারণত জার্সি, মাঠের বিজ্ঞাপন কিংবা টুর্নামেন্টের স্বত্বের বিষয়গুলোই সামনে এসেছে। এবার সেই প্রচলিত বৃত্তের বাইরে গিয়ে দলের যাতায়াত ব্যবস্থাকেও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে বিসিবি। আন্তর্জাতিক সিরিজে দুই দলের টিম বাসের দৃশ্যমান উপস্থিতিকে নিজেদের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে গাড়িবুক।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাসে থাকবে গাড়িবুকের ব্র্যান্ডিং। ফলে সিরিজ চলাকালে মাঠের বাইরেও দুই দলের সঙ্গে দৃশ্যমান থাকবে প্রতিষ্ঠানটির নাম।
চুক্তি প্রসঙ্গে বিসিবি পরিচালক মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে গাড়িবুক। এর বিনিময়ে বোর্ড পাবে ২৫ লাখ টাকা। শুধু এই সিরিজেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি, ভবিষ্যতেও বিসিবির সঙ্গে থাকার আগ্রহ রয়েছে তাদের।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দুই দলের টিম বাসেই শোভা পাবে গাড়িবুকের ব্র্যান্ডিং। ঢাকা থেকে সিলেট, দুই টেস্টের পুরো সফরেই এই লোগোসংবলিত বাসে যাতায়াত করবেন লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, শামার জোসেফ, রোস্টন চেইসদের মতো তারকারা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দলের যাতায়াতেও দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকবে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানের।
আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই। এরপর ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই ভেন্যুতে দুই দলের যাতায়াতের সময়ই গাড়িবুকের ব্র্যান্ডিং চোখে পড়বে।
এই চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিসিবির বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নতুন একটি ক্ষেত্রের সংযোজন। পরিবহনসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্পন্সরশিপের নতুন উৎস থেকে আয় করার সুযোগ পাবে বোর্ড।
