গাজীপুরের হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মো: জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার, পিপিএম-সেবা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে চাঁদা দাবির এ ঘটনা ঘটে।
মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মিলটন হোসেনের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সহযোগীদের নিয়ে মার্কেটে আগুন দেয়ার এবং তাকে হত্যা ও জখম করার হুমকি দেয়া হয়।
এ ঘটনায় মিলটন হোসেন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাসন থানায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলাটি সোমবার (১২ অক্টোবর) পিবিআই গাজীপুর জেলা অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআইয়ের বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, জুয়েল গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং জুয়া খেলার কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হন। পরে ওই মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তিনি চাঁদা দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভয়ে বাদী বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে তিন হাজার টাকা এবং পরে আরো দুই হাজার টাকা দেন। এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবারো আগুন দেয়ার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার জানান, চাঁদাবাজির ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরো বলেন, ‘একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এতে যেমন চাঁদাবাজির মতো একটি অপরাধ প্রতিহত করা গেছে, একইসাথে একটি সম্ভাব্য নাশকতাও রুখে দেয়া গিয়েছে।’
