আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের (আইএইচএফ) সহায়তায় এবং বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়া-আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। দলের এ সাফল্যে অবদান রাখায় জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার তিন কৃতী খেলোয়াড় সুমাইয়া আক্তার, অনুরাধা পাহান ও পূর্ণিমা রানীকে সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিন খেলোয়াড়ের হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “সুমাইয়া, অনুরাধা ও পূর্ণিমা আমাদের নওগাঁ, বদলগাছী তথা পুরো বাংলাদেশের গর্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের এই অসামান্য সাফল্য দেশের নারীদের ক্রীড়াচর্চায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ তরুণ সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “আমাদের এলাকার মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। উপজেলা প্রশাসন সব সময় এই কৃতী খেলোয়াড়দের পাশে থাকবে এবং তাদের যেকোনো সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।”
জানা যায়, টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে নেপালের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে পূর্ণিমা রানী ও অনুরাধা পাহান একটি করে গোল করেন। অন্যদিকে, ভারতের কাছে গ্রুপ পর্বে ৪৭-১৩ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ দল। পরে গত ২২ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতের কাছে ২৮-১৬ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন স্পেনের নাগরিক আনা আলোনসো।
সংবর্ধনা পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সুমাইয়া আক্তার বলেন, “মাঠে আমাদের একটাই লক্ষ্য থাকে, লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরা। আজকের এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। সামনের দিনগুলোতে দেশের জন্য আরও বড় জয় এনে দিতে চাই। আমাদের এই অর্জনের পেছনে কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের অবদান অপরিসীম।”
অনুরাধা পাহান বলেন, “মাঠের প্রতিটি মুহূর্তের কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগ আজ সার্থক বলে মনে হচ্ছে। সংবর্ধনার মঞ্চ থেকে যে ভালোবাসা পেলাম, তা ভবিষ্যতে দেশের জন্য সেরাটা উজাড় করে দিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
পূর্ণিমা রানী বলেন, “খেলার মাঠে জয়ের চেয়েও বড় আনন্দ হয়, যখন দেশবাসী আমাদের এভাবে বুকে টেনে নেয়। এই সংবর্ধনা দেশের প্রতিটি মেয়ের জন্য বড় অনুপ্রেরণা, যারা খেলাধুলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।”
নিজ উপজেলা থেকে এমন সম্মাননা পেয়ে তিন খেলোয়াড়ই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সংবর্ধনা শেষে তাঁরা ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
